৮ মার্চ, ১৯৬১ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রিন্স এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সেখানে গ্রায়েম হিক তার সহপাঠী ছিলেন। জ্যেষ্ঠদের ক্রিকেটে ওল্ড হারারিয়ান্সের পক্ষে অধিকাংশ খেলায় অংশ নিতেন। এরপর, কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ম্যাশোনাল্যান্ড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দলে মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। এ অবস্থানে থাকাকালীন ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনে কোনরূপ খুঁত ছিল না বললেই চলে। এছাড়াও, দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজ আঁকড়ে মনোনিবেশ ঘটানোয় খুবই নিচুমানের রান সংগ্রহে অনেক সময়ই বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতেন। প্রায়শঃই নতুন বল মোকাবেলায় এ ধরনের কৌশলের কারণে প্রতিপক্ষীয় বোলারদের কাবু করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। নিখুঁত ফিল্ডার হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। বিশেষতঃ কভার ও পয়েন্ট অঞ্চলে দণ্ডায়মান থেকে এ সফলতা পেয়েছেন।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বল মোকাবেলা করার গৌরব অর্জনকালীন মুহূর্তটি জিম্বাবুয়ীয়দের কাছে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারত দলের মুখোমুখি হন। সিরিজের একমাত্র টেস্টটিতে জন ট্রাইকোস ব্যতীত অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৭৬ বল মোকাবেলা করে মূল্যবান ৪০ রান তুলে উইকেটের প্রতি স্বীয় ভালোবাসার কথা জানান দেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯২ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারকে সাথে নিয়ে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশের মর্যাদাকালীন অন্যতম জিম্বাবুয়ীয় প্রতিভাবান তারকা ক্রিকেটার হিসেবে বয়সের ভারে ন্যূহ ছিলেন। ফলে, অধিক টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬১ বলে মাত্র ৭ রান করেন। এছাড়াও, নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নমূখী রানের খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিজয়ের ন্যায় সেরা অঘটনের নেপথ্যে অবস্থান করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। গ্রুপ পর্বের ঐ খেলায় দল মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে গেলেও ৯ রানের নাটকীয় জয় তুলে নেয়।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে বুলাওয়েতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে ডেভিড হটনের পর দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব দেখান। এ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪০ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর একমাত্র টেস্ট শতকে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ৩০ ও ১০১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।
একই মৌসুমে ডেভ হটনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বিনোদ কাম্বলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে ইনিংস ও ১৩ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তাঁর দল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আঙ্গুলের আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তুলনামূলকভাবে অনেকটা আগেভাগেই ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ২২ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন।
উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তবে, ছয় বছর পরই খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করতে বাধ্য হন। বিশ বছরের অধিক সময় ধরে হারারেভিত্তিক আইনী প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীর হিসেবে কাজ করছেন। পিতা ডন ডিবি আরনট ১৯৫০-এর দশকে রোডেশিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
