১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জামালপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘লিখন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও আবাহনী লিমিটেডের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ‘এ’ বনাম জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ-স্পিনারদের গুরুত্বতা তুলে ধরার ন্যায় বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ ছিলেন। অনেকাংশেই জোরপূর্বক অল-রাউন্ডার করার প্রবণতায় ব্যতিক্রম ছিলেন। স্বীয় বোলিং শৈলী প্রদর্শনে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ শিবিরে সর্বদাই অনুশীলনীকর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। ঐ বছরের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের মাঝামাঝি সময়ে আইসিসি থেকে সোহাগ গাজী’র বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে তাঁকে দলে যুক্ত করেন। তবে, পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনা চললেও কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন।
২০১৪ থেকে ২০১৫ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, তিনটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। শুধুমাত্র লেগ-স্পিনার হিসেবে টেস্টে অংশগ্রহণকারী প্রথম বাংলাদেশী খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের মুখোমুখি হন। ১৫ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। নিজস্ব নবম বলে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ২/৫৮ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, তাইজুল ইসলামের অসামান্য বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিক দল ৩ উইকেটে জয় পায়। ঐ সিরিজে সব মিলিয়ে ১১ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, খুলনায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ফারুক আহমেদ বাংলাদেশ দলে রাখেননি। কিন্তু, কোচ চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা মন্তব্য করেন যে, অস্ট্রেলীয় পরিবেশে তাঁর বোলিং উপযোগিতার কথা তুলে ধরেন। বছরব্যাপী ফারুক ও হাথুরুসিংহা’র মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলতে থাকে এবং বিসিবি নির্বাচকমণ্ডলী পরিবর্তন করলে ফারুক আহমেদ পদত্যাগ করেন। তবে, এ বিতর্কে জুবায়ের হোসেনের কোন কিছুই করার ছিল না।
২০১৫ সালে নিজ দেশে হাসিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
২০১৫ সালে ফতুল্লায় বাংলাদেশে একমাত্র টেস্ট খেলার জন্যে সফররত ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে বাংলাদেশ দলে আমন্ত্রণ পান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলায় গুগলি বোলিংয়ে বিরাট কোহলি’র উইকেট পান। অবশ্য, একই সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে আবাহনী লিমিটেড ক্লাবে আত্মবিশ্বাসের অভাবে খেলার সুযোগ পাননি। এছাড়াও, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটলেও তেমন সুবিধে করতে পারেন। এক পর্যায়ে বল প্রায় দুইবার পিচ স্পর্শ করে ম্যালকম ওয়ালারের কাছে পৌঁছে। প্রথম ওভারেই ১৭ রান খরচ করে ফেলেন।
১৩ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টি২০আইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে। এক পর্যায়ে এক ওভার থেকে দুই উইকেটের সন্ধান পান।
২০১৫ সালে বিপিএলে কোন চুক্তির আওতায় আসেননি। ২০১৭ সালে স্পিনার হিসেবে সর্বশেষ কাতারে অবস্থান করেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট দলগুলোর কাছ থেকে ক্রমাগত উপেক্ষার শিকারে পরিণত হন। তাসত্ত্বেও, প্রথম টেস্ট খেলার প্রায় চৌদ্দ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম লেগ-স্পিনার হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ২২ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
