৯ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে গুজরাতের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৬০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেমপ্লাস্ট, চেন্নাই সুপার কিংস, ডেকান চার্জার্স, কোচি তুস্কার্স কেরালা, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন।
২০০০ সালে হরিয়াণার বিপক্ষে শিশুসূলভ মুখশ্রীর অধিকারী পার্থিব প্যাটেলের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কারণে খুব দ্রুত জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো লিস্ট-এ ক্রিকেটে শতক হাঁকান। এরফলে গুজরাত দল বিজয় হাজারে ট্রফির শিরোপা প্রথমবারের মতো লাভ করে। সৈয়দ মুশতাক আলী টি২০ প্রতিযোগিতায়ও রানের ফল্গুধারা অব্যাহত রাখেন। নয় ইনিংসের চারটিতেই অর্ধ-শতক হাঁকান। দেওধর ট্রফিতে ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলেন।
গুজরাত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেন। ওড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ডের বিপক্ষে যথাক্রমে কোয়ার্টার-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনালে তাঁর দল পরাজিত করে চূড়ান্ত খেলায় পৌঁছে। এটিই তাঁর দলের দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। জানুয়ারিতে ইন্দোরে পূর্বতন শিরোপাধারী দলের মুখোমুখি হয় তাঁর দল। প্রথম ইনিংসে ৯০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৩ রান তুলে মুম্বইকে পরাজিত করে গুজরাত দল প্রথমবারের মতো রঞ্জী ট্রফির শিরোপা লাভ করে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে খেলেন। এরপর, তিন মৌসুম খেলার পর সেখানে সুযোগ কম পান ও অধিকাংশই অকার্যকর ছিল। চতুর্থ মৌসুমে কোচি তুস্কার্স কেরালার পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু, ঐ দলটির উপর স্থগিতাদেশ আসলে ২০১৩ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে ও ২০১৪ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেন।
আইপিএলের ২০১৫ সালের আসরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। শুরুতে ঢিলেতালে খেললেও প্রতিযোগিতার মাঝামাঝি সময়ে ছন্দ ফিরে পান। ঐ আসরে ৩৩৯ রান তুলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন ও চতুর্থ শীর্ষ রান সংগ্রহকারীতে পরিণত হন।
২০১৮ সালের আসরে আরসিবি ₹১.৭ কোটি রূপীর বিনিময়ে তাঁকে নিলামে কিনে নেয়। শেষ দুই মৌসুমে ২০ খেলা থেকে ৫২৬ রান তুলেন।
২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্ট, ৩৮টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে ভারত দলে তরুণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে সৌরভ গাঙ্গুলী’র সহায়তা পেয়েছিলেন। ২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ আগস্ট, ২০০২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ১৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
৪ জানুয়ারি, ২০০৩ তারিখে কুইন্সটাউনে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এছাড়াও, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সময়ে তিনি হাই স্কুলে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এমএস ধোনি’র উত্থানে তাঁকে মাঠের পাশে বসে থাকতে হয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১৯ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। লুঙ্গি এনগিডি’র অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে সম্যক ভূমিকা রাখেন। ভুবনেশ্বর কুমারের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয় পেলেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ৯ মার্চ, ২০০৮ তারিখে শৈশবের বান্ধবী অবনী জাভেরি নাম্নী এক তরুণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির বেনিকা নাম্নী কন্যা রয়েছে।
