২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে ত্রিনিদাদের প্রেসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মুঠোর পিছনে বল রেখে ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতে চায়নাম্যান বোলিং করতেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ত্রিনিদাদের পক্ষে অভিষেক ঘটে। সবমিলিয়ে ৩২৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে নিজ দেশে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে সফররত ভারতের বিপক্ষে অংশ নেন। ইউটন ডো’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৬০ ও ১/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কোন ইনিংসেই তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে খেলার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে নিজ দেশে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৩ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ১২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২০ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চূড়ান্ত ও পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টিডব্লিউ জার্ভিসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৯২। এ পর্যায়ে তিনি নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৫৯ ও ২/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অবশ্য, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাক্স ওয়াকারের বলে রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১২৪ ও ২/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
হাল্কা-পাতলা গড়নের অধিকারী ছিলেন ও সর্বদাই দলে আসা-যাওয়ার পালায় থাকতেন। এছাড়াও, অবিশ্রান্ত ফাস্ট বোলিংয়ের দাপটে খুবই সীমিত পর্যায়ের খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের সফলতা টেস্ট পর্যায়ের খেলায় মেলে ধরতে না পারাও অন্যতম কারণ ছিল।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১ এপ্রিল, ১৯৭৭ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮৬ ও ২/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২৬৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সবমিলিয়ে ৪৭.৬৭ গড়ে ৩৪টি টেস্ট উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে পোর্ট অব স্পেনে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে দূর্দান্ত বোলিং করেন। এপ্রিল, ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৫/৫৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ার পর দলে সীমিত পর্যায়ে ভূমিকা রেখেছেন। চারজন পেসার নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনার পূর্বেকার শেষদিকের অন্যতম স্পিনার ছিলেন।
অপ্রত্যাশিত ধরনের বোলিংয়ের কারণে শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানেরা মোকাবেলায় সক্ষম হলেও বাদ-বাকীরা নিয়মিতভাবে সমস্যায় নিপতিত হতো। এরপর ত্রিনিদাদের ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর স্বল্পকালীন সময়ে অসুস্থতার কবলে পড়েন। অতঃপর, ২৪ জুন, ১৯৯৫ তারিখে মাত্র ৪৫ বছর ২৭২ দিন বয়সে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
