৩১ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, লখনউ সুপার জায়ান্টস, ডারবান সুপার জায়ান্টস, দুবাই ক্যাপিটালস, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, দুবই ক্যাপিটালস ও পেশাওয়ার জালমি দলে খেলেছেন।

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে নর্থ সাউন্ডে গায়ানা বনাম বার্বাডোসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের উভয়টিতে অংশ নেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে অ্যাডিলেডের কারেন রোল্টন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জাস্টিন গ্রিভসকাভেম হজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ৫/৯৪ ও ০/৭ লাভ করে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ব্রিসবেনে পায়ের আঘাত স্বত্ত্বেও বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১/৫৬ লাভ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৬৮ লাভ করে দলের ৮ রানের নাটকীয় বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, উভয় ইনিংসেই ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এরফলে দীর্ঘ ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ের সন্ধান পায় ক্যারিবীয় দল। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। এ টেস্টের পর প্যাট কামিন্সের সাথে পোশাক বিনিময় করেন। অপ্রত্যাশিত বিজয়ে ব্রায়ান লারাকার্ল হুপার – উভয়েই আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। ঐ সিরিজে ২৮.৫০ গড়ে ৫৭ রান ও ১৭.৩০ গড়ে ১৩ উইকেট পেয়েছিলেন।

আইপিএল ২০২৪ সালের আসরে লখনউ সুপার জায়ান্টসে যোগ দেন। তিনি মার্ক উডের স্থলাভিষিক্ত হন। কেএল রাহুলের নেতৃত্বাধীন দলে ৩ কোটি রূপীর বিনিময়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে আইপিএল অভিষেকে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। টেস্টে শূন্যে ভাসা অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে নির্ধারিত চার ওভারে ৪৭ রান খরচসহ দুইবার তাঁর বল থেকে ক্যাচ ফস্কে যায়। কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও দল ৮ উইকটে পরাজিত হয়। প্রথম ওভারেই ২২ রান খরচ করে ফেলেন। ঐ ওভারটি দশ বল নিয়ে গড়া ছিল। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করেছেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশী দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি  রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৫ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভসের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ২০১ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। বল হাতে নিয়ে ৩/৪৯ ও ২/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, তাইজুল ইসলামের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১০১ রানে জয় পেয়ে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

২০২৫ সালে নিজ দেশে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে স্কট বোল্যান্ডের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৩৩ ও ৪/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফো’র ২০২৪ সালের সেরা সাতজন পুরুষ তরুণ অভিষেকধারীর পুরস্কারের জন্যে মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আল্লাহ গজনফর, ধ্রুব জুরেল, জ্যাকব বেথেল, নাহিদ রানা, নীতিশ কুমার রেড্ডি ও অটনিল বার্টম্যানের সাথে তাঁকে রাখা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট