|

শমিন্দা ইরঙ্গা

২৩ জুন, ১৯৮৬ তারিখে চিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

দীর্ঘ ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০৬ সালে সমগ্র দ্বীপে পেস বোলিং প্রতিযোগিতায় সাবেক শ্রীলঙ্কান মিডিয়াম পেসার চম্পকা রামানায়াকে ও অনুশা সামারানায়াকের নজর কাড়েন। পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণে নুয়ান প্রদীপলাসিথ মালিঙ্গা’র সাথে তাঁকেও চিহ্নিত করা হয় এবং শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। সেখানে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে তৎপর হন। সুইং ও উভয় দিকেই বলে সিম আনয়ণের বিষয়ে শেখেন। বুদ্ধিমত্তা সহযোগে পেস আনতে পারতেন।

চিল’র সেন্ট ম্যারিজ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১০ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে কলম্বোর এনসিসিতে অনুষ্ঠিত চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব বনাম বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

শ্রীলঙ্কান প্রথম বিভাগে প্রিমিয়ার লীগে চিল’ ম্যারিয়ান্সের পক্ষ খেলছেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি ম্যারিয়ান্সের পক্ষে ব্যাট হাতে কিছু দূর্দান্ত ভূমিকা রেখেছিলেন। ইতোমধ্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অপরাজিত ১০০ রানের একটি শতক হাঁকিয়েছেন। ২০১০ সালে তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে জাতীয় দলে সম্ভাব্য ফাস্ট বোলার হিসেবে জায়গা করে নেন। শ্রীলঙ্কা উন্নয়ন দলের সদস্য হন। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে অভিষেক ঘটে। এরপর, ২০১১ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। এরপর পরপরই জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন।

২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট, সমসংখ্যক ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হাম্বানতোতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্রাড হাড্ডিন ও পরবর্তীতে রিকি পন্টিংয়ের উইকেট নিয়ে বেশ সাড়া জাগান। ওডিআইয়ে অভিষেকের একমাসের মধ্যেই একই সফরে টেস্টে অংশ নেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ওডিআইয়ের অভিষেক যদি ভালো হয়ে থাকে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক পর্বটি দারুণ হয়েছিলেন। প্রথম বলেই শেন ওয়াটসনকে বিদেয় করেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পঞ্চদশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বোলার হিসেবে প্রথম বলেই উইকেট লাভের বিরল কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে মাইকেল ক্লার্ক, মাইকেল হাসি ও ব্রাড হাড্ডিনের উইকেট পেয়েছিলেন। ঐ ইনিংসে ৪/৬৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনায়ক মাইকেল হাসি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর পিঠের আঘাতের কারণে কিছুকাল দলের বাইরে থাকেন ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। নয়মাস পর সদর্পে দলে ফিরে আসেন ও স্থায়ীভাবে খেলতে থাকেন। টি২০ আন্তর্জাতিকের প্রথম ওভারে উইকেট নিয়ে ষোল কলা পূর্ণ করেন। ৭ আগস্ট, ২০১২ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে গৌতম গম্ভীরের উইকেট নিয়ে এ সফলতা পান। এরফলে, ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে প্রথম ওভারে উইকেট লাভ করেছিলেন।

২০১৪ সালে পায়ের গোঁড়ালীর আঘাতের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে টেস্ট ক্রিকেটের বোলিং আক্রমণে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলেও চানকা বেলেগেদারা’র আঘাতের কারণে অনুপস্থিত হলে দলের ভয়ঙ্কর পেসার হিসেবে পরিচিতি পেতেন। বাংলাদেশ সফরে রঙ্গনা হেরাথের অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা দলের প্রধান বোলিং পরিচালনা শক্তিতে পরিণত হন।

জুন, ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টের পর আইসিসি থেকে সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কবলে পড়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন ও ঐদিনই অতিরিক্ত হৃদপিণ্ড সঞ্চালনের কারণে হাসপাতালে নীত হন। মে, ২০১৬ সালে বোলিং ত্রুটি থেকে মুক্তি পান।

২০১৬ সালে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৯ জুন, ২০১৬ তারিখে তৃতীয় ইনভেসটেক টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। ১/৯৪ ও ৩/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট