১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ক্যান্টারবারি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অকল্যান্ড দলের সদস্য থাকাকালীন জাতীয় দলে খেলার জন্যে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কিউই দলের প্রতিষ্ঠিত সদস্যের মর্যাদা দেয়া হলে তাঁর এ সম্ভাবনা ক্ষীণতর হয়ে পড়ে। অবশেষে কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে খেলার জন্যে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জাতীয় দল থেকে আমন্ত্রণ লাভের পূর্বে ২০০৮-০৯ মৌসুমে ৫০.৬৩ গড়ে ৫৫৭ রান তুলেছিলেন। দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষেও খেলার এ ধারা বজায় রাখেন। ব্যাটিংয়ের দক্ষতা বহুপূর্বেই রেখেছিলেন। ২০০১ সালে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। তবে, জুলাইয়ে ক্যান্টারবারিতে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। মূলতঃ তিনি উইকেট-রক্ষণ ও ব্যাটিং – উভয় বিভাগেই সমান মনোনিবেশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। অকল্যান্ডে থাকাকালীন গারেথ হপকিন্সকে মূল উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলানোর ফলে তিনি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সুযোগ পেতেন। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল ও ২০০৮-০৯ মৌসুমে ৫০.৬৩ গড়ে ৫৫৭ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দুইবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। এছাড়াও, ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ মৌসুমে ক্যান্টারবারির পক্ষে দুই মৌসুম খেলেন। এরপর, পুণরায় অকল্যান্ডে ফিরে যান।
২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সহকারী হিসেবে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে টেস্ট দলে ঠাঁই পান। ২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি তাঁর শততম প্রথম-শ্রেণীর খেলা ছিল। শুরুটা তাঁর মোটেই ভালো হয়নি। ১৪ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, আব্দুর রেহমানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
তবে, ওয়েলিংটনের দ্বিতীয় টেস্টে শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতরানের সন্ধান পান।
বয়সও তাঁর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দক্ষতার কারণে সীমিত সুযোগ পেতেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দীর্ঘদিনের হাঁটুর সমস্যার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর দীর্ঘ সংস্করণের খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হয়ে উঠে। তবে, ক্রমাগত রান সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তাঁর এ স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১১ সালে ৫ টেস্ট থেকে মাত্র একবার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯* ও ৩৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।
একই মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
জানুয়ারি, ২০১২ সালে নিজ দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ খেলা থেকে বাদ পড়েন। তাঁর পরিবর্তে বিজে ওয়াটলিংকে দলে ঠাঁই দেয়া হয় ও তিনি এ সুযোগ গ্রহণ করে শতক হাঁকান। তিনি সময়ের দাবীকে মেনে নেন ও ২৬ জুলাই, ২০১৩ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ক্রিকেটের বাইরে কর্মজীবনে মনোনিবেশ ঘটান।
