|

ড্যারেন গফ

১৮  সেপ্টেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মঙ্ক ব্রিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘রাইনো’ কিংবা ‘ড্যাজলার’ ডাকনামে ভূষিত ড্যারেন গফ ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। প্রায়োরি কম্প্রিহেনসিভে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৫৮ টেস্ট, ১৫৯টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে নিজ দেশে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মে, ১৯৯৪ তারিখে বার্মিংহামে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

একই সফরের ৩০ জুন, ১৯৯৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক পর্বটি দারুণভাবে উপভোগ করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৪৭ ও ২/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ফিলিপ ডিফ্রিটাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৮৪ ও ৩/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রায়ান ম্যাকমিলানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, ৪/৯১ ও ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/১১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বক্সিং ডে পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৯৬ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থ দিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ডিন হ্যাডলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও ছেড়ে দেয়া খেলায় তিনি ২/৯২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০০ সালে নিজ দেশে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। লর্ডসের শততম টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পায়। একই সফরের ৩১ আগস্ট, ২০০০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২৫ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাইক অ্যাথার্টনের চমৎকার ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৮ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৮৬ রান সংগ্রহসহ ২৫ উইকেট দখল করে কার্টলি অ্যামব্রোসের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০০-০১ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৭ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৪/৭৩ ও ৪/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০১ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ২০০১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শেন ওয়ার্নের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিতে বাধ্য হন। এছাড়াও, ১/১৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৮ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩১ জুলাই, ২০০৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ১৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শন পোলকের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১২৭ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। মাখায়া এনটিনি ও গ্রায়েম স্মিথের দূর্দান্ত সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৪ সালে ওডিআইয়ে প্রথম ইংরেজ পেসার হিসেবে ২০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্ট থেকে নয়বার ও ওডিআইয়ে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন।

১৫ বছর ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলে অধিনায়ক হিসেবে অবসর নেন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে ইংল্যান্ড দলের বোলিং পরামর্শক হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৫ সালে বিবিসি’র টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিংয়ে’ ব্রিটিশ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন লিলিয়া কপিলোভা’র সাথে জুটি গড়ে বিজয়ী হন। ২০০৯ সালে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিতি ঘটান। ডেভিড ক্যামেরন তাঁকে দলীয় প্রার্থী হবার প্রস্তাবনা দিলেও তিনি নাকচ করে দেন।

৩ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে ওয়াসিম আকরামের সাথে দাতব্য তহবিল গঠনে যৌথভাবে অগ্রসর হন। ১০ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননা হিসেবে ক্রিকেটে অসামান্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধিতে ভূষিত হন। চ্যাম্পিয়নশীপে বার্নস্লি এফসি’র তুখোড় সমর্থক। ইয়র্কশায়ারীয় ও সাবেক ইংরেজ স্ট্রাইকার ডেভিড হার্স্টকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে ‘টকস্পোর্টস আফটারনুন ড্রাইভ-টাইম শো’য়ে আখ্যায়িত করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। অ্যানা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির লিয়াম ও ব্রেনান নামীয় সন্তান রয়েছে। আট বছরের বৈবাহিক জীবন অতিবাহনের পর ২০০২ সালে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হলেও ২০০৯ সালে ডেইলি টেলিগ্রাফে মিলনের কথা জানানো হয়। বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটা অ্যামি চাইল্ডসের সাথে ডেটিংয়ের গুজব রয়েছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট