১০ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার উডভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ফাইরি’ ডাকনামে ভূষিত ড্যান কালেন ১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। শেন ওয়ার্নকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছিলেন। দশ বছর বয়সে অ্যাডিলেডে তাঁর কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিয়েছিলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেডে সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। প্রথম মৌসুমেই ৩০.৩৭ গড়ে ৪৩ উইকেট নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।
দ্বিতীয় মৌসুমে আঙ্গুলের আঘাতে স্বাভাবিক খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটে। তাসত্ত্বেও ২৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ২১ বছর বয়সে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এ পর্যায়ে দল নির্বাচক ট্রেভর হন্স মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রতিশ্রুতিশীল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে তাঁকে বাংলাদেশ গমনার্থে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করলেও তাঁকে মাত্র এক টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ২০০৫-০৬ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৬ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দল তিনজন স্পিনারকে মাঠে নামায়। শেন ওয়ার্ন ও স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের সাথে একত্রে খেলেন। তবে, তাঁকে খেলায় মাত্র ১৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। শেন ওয়ার্নের কাছ থেকে ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভ করেন। মাশরাফি মর্তুজাকে কট বিহাইন্ডে বিদেয় করে একমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১/২৫ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেসন গিলেস্পি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরে ২৩ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২৪ বছর বয়সে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ২৫ বছর বয়সে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বশেষ একদিনের খেলায় অংশগ্রহণ করেন। ২৬ বছর বয়সে রাজ্য দলের চুক্তি হারান ও ক্রিকেট থেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। বেশ উজ্জ্বল সম্ভাবনা তাঁর মাঝে নিহিত ছিল। তবে, শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীকালে আর ধরে রাখতে পারেননি।
২০০৬ সালে ব্র্যাডম্যান বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।
