১৫ জুন, ১৯৪৬ তারিখে ডেভনের টোরকুয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘টলি’ ডাকনামে ভূষিত রজার টলচার্ড ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা ও ঘন চূলের অধিকারী। উলবোরা হিল প্রিপ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে ম্যালভার্ন কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন।
১৯৬৫ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলায় অংশ নেন। পরের বছর কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ১৯৮১ সালে লিচেস্টারশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। দলের ভাগ্য পরিবর্তনে অগ্রসর হন ও ১৯৮২ সালে চ্যাম্পিয়নশীপে দ্বিতীয় স্থান দখল করে তাঁর দল।
১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত ও পাকিস্তান গমন করে বেশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। উইকেট-রক্ষণে বেশ দৃঢ়তা প্রদর্শন করলেও অ্যালান নট ও বব টেলরের ন্যায় সমসাময়িক উইকেট-রক্ষকদ্বয়ের সাথে তাঁকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। ব্যাটসম্যান হিসেবে সবগুলো টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন।
১ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে দলীয় অধিনায়ক টনি গ্রেগের সাথে ১৪২ রান তুলে কলকাতায় প্রথমবারের মতো সফরকারীদের টেস্ট জয়ে ভূমিকা রাখেন। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই অংশ নেন; দূর্দান্ত ফিল্ডিং করেন। কিন্তু, ব্যাট হাতে আর তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাঙ্গালোরে ভাগবত চন্দ্রশেখরের বলে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নিলে হেনরি ব্লোফেল্ড মন্তব্য করেন যে, তাঁর দেখা সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্তের শিকারে পরিণত হয়েছেন।
একই সফরের ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৭৮-৭৯ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিতে রান সংগ্রহ ও স্ট্রোকপ্লের অপূর্ব প্রদর্শনীতে অংশ নেন। কিন্তু, খেলাটি এক ঘণ্টা পরই বৃষ্টির কবলে পড়ে পরিত্যক্ত হয়। তবে, বাউন্সারে মারাত্মকভাবে আঘাত পেলে তাঁকে ইংল্যান্ডে ফেরৎ পাঠানো হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩১.১৩ গড়ে রান তুলে অ্যালান নটের চেয়ে এগিয়েছিলেরন। তবে, টেস্ট পর্যায়ে তাঁকে উইকেট-রক্ষণে খেলানো হয়নি। ১৯৮৩ সালে অবসর গ্রহণের পর মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেটে অংশ নেন। এরপর, সাবেক বিদ্যালয় ম্যালভার্ন কলেজে পেশাদার ক্রিকেট হিসেবে অংশ নিয়ে দুইবার ক্রিকেটার্স কাপ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি স্কোয়াশ ও র্যাকেট খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর বেশ সুনাম ছিল। ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন শেষে আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র রজার টোজ নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছে ও স্বীয় ভ্রাতা জেফ লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
