|

ক্লেয়ারমন্ট দেপিয়াজা

১০ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে বার্বাডোসের মাউন্ট স্ট্যান্ডফাস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯৫৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। নরম্যান মার্শালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬* ও ১৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৮ মে, ১৯৫৫ তারিখে বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলনায়ক ডেনিস অ্যাটকিনসনের (২১৯) সাথে জুটি গড়ে তিন রান বেশী করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। সপ্তম উইকেট জুটিতে তাঁরা ৩৪৭ রান তুলেন। তৃতীয় দিনের শেষদিকে তাঁরা জুটি গড়ে চতুর্থ দিন পুরোটা সময় মাঠে অবস্থান করেন। দলীয় সংগ্রহ ১৪৭/৬ থাকাকালে জুটি গড়েন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫১০ রান তুলে। রিচি বেনো’র বলে বোল্ড হন। ১২২ রান তুলতে ৩৩০ মিনিট ব্যাটিং করেন ও ১৬ চারের মার মারেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। এরফলে, ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির কোয়ার্টার-ফাইনালে পাঞ্জাবের ভুপিন্দার সিং জুনিয়র ও পঙ্কজ ধর্মানী দিল্লির বিপক্ষে ৪৬০ রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের সপ্তম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজেদের করে নেন।

নিজস্ব দ্বিতীয় ঐ টেস্টটিতে পঞ্চম দিনের শুরুতে ১২২* রানে অপরাজিত ছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৩০ মিনিট ক্রিজে ১৬টি চারের মার মেরেছিলেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় ৪৮-১৪-১০৮-২ ও ৩৬.২-১৬-৫৬-১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। এটিই উভয় খেলোয়াড়ের একমাত্র টেস্ট শতক ছিল। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সর্বমোট ১৬টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। এটিই তাঁর একমাত্র প্রথম-শ্রেণীর শতক ছিল। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তাঁর দল। এরপর, তিনি আর মাত্র তিন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

এরপর, ১১ জুন, ১৯৫৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে কিথ মিলারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ ও তিনটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৪ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে, ইংল্যান্ডের লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। ১০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ম্যানচেস্টারে ৬৭ বছর ৩১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট