১২ এপ্রিল, ১৯৪৮ তারিখে ত্রিনিদাদের হারমোনি হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন।

ধ্রুপদীশৈলীর ধীরগতিসম্পন্ন বোলার না হলেও উইকেট লাভের ক্ষেত্রে নিখুঁতভাব বজায় রাখার দিকে অধিকতর সচেষ্ট ছিলেন। এরফলে, ব্যাটিং উপযোগী পিচেও মাঝে-মধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রাখতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২০ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চূড়ান্ত ও পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক খেলায় ৬৪ ওভার থেকে ৩১টি মেইডেন পেয়েছেন ও ওভারপ্রতি এক রানের অল্প বেশী গড়ে রান খরচ করেছেন। ১/৬৪ লাভ করেছিলেন। ১/১৮ ও ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩* ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অবশ্য, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮৯ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলারদের দাপটে অধিক টেস্ট খেলতে পারেননি। ১৯৭৬ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। এ সফরে ৩০ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করলেও কেবলমাত্র একটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড পেস আক্রমণে ঝড় তোলার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে তারকা ক্রিকেটারদের শূন্যতা পূরণে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেন। ১১ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, কিংস্টনে ৪/৭২ লাভ করেন।

কেবলমাত্র একবারই ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ভারত সফরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। আলবার্ট প্যাডমোরইমতিয়াজ আলী’র সাথে বোলিং আক্রমণে নেমেছিলেন। তবে, ভারত দল ৬ উইকেটে জয় পেলে অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড স্পিনের উপর আর আস্থা রাখেননি। তিনি ৪১ ওভার বোলিং করে ২/৭০ পেয়েছিলেন। এ সিরিজে অবশ্য মাত্র তিন উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। তারকা ক্রিকেটারের দলে ফিরে আসলে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। এ টেস্টে স্বাগতিকরা ৬৪৪/৭ তুললেও তিনি ৩/১৩৭ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। জুলাই, ২০০৮ সালে ক্লাইড বাটসের নেতৃত্বে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন।

২৭ জুলাই, ২০২৩ তারিখে ৭৫ বছর ১০৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট