|

ফ্রান্সিস ফোর্ড

১৪ ডিসেম্বর, ১৮৬৬ তারিখে লন্ডনের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। সাত ভ্রাতার মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। ‘স্টর্ক’ ডাকনামে ভূষিত ফ্রান্সিস ফোর্ড ছয় ফুট পৌনে তিন ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। রেপ্টনে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কিংস কলেজে পড়াশুনো করেছেন। তন্মধ্যে, রেপ্টনে থাকাকালীন শেষ দুই মৌসুমে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অক্সফোর্ড সাত উইকেটে জয় পায়, পরের খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এরপর, দুইটি খেলায় কেমব্রিজের জয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে ১৮৮৭ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত দলের প্রতিনিধিত্ব করে প্রত্যেক মৌসুমেই ব্লুধারী হন। অবশ্য, ১৮৯০ সাল বাদে অন্যান্য বছরগুলোয় নিজের সেরা খেলা প্রদর্শনে অগ্রসর হতে পারেননি। এ পর্যায়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় সর্বোচ্চ ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। একই বছর হোভে সাসেক্সের বিপক্ষে কেমব্রিজ দলের সর্বাধিক ৭০৩/৯ সংগ্রহকালীন তিনি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৮৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে দলের ইনিংস ও ১০৫ রানের বিজয়ে অংশ নেন। ১৮৯০ সালে আবারও দলের সাত উইকেটের বিজয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, ১৮৮৭ ও ১৮৮৮ সালে ফুটবলে ব্লুধারী হন। এছাড়াও, ১৮৮৯ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়াও, করিন্থিয়ান্সের পক্ষে গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৯০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কাট ও ড্রাইভে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন।

১৮৯৪ থেকে ১৮৯৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আর্চি ম্যাকলারিন, জ্যাক ব্রাউন ও লেসলি গে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩০ ও ৪৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১০ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জর্জ গিফেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আনতে সমর্থ হয়।

এরপর, ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ইংল্যান্ডের ৬ উইকেটের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রেখে ৩-২ ব্যবধানে রাবার বিজয়ে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। কেমব্রিজ অ্যাসোসিয়েশন একাদশের পক্ষে গোলরক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণের পরও ক্রিকেটের সাথে যুক্ত ছিলেন। ক্রিকেটের ২৪ নম্বর ধারা নো-বলের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন।

৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪০ তারিখে সাসেক্সের বারওয়াশ এলাকায় ৭৩ বছর ৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট