২৪ জানুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও জ্যামাইকায় শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। মাতা জ্যামাইকীয় ও পিতা বার্বাডীয় ছিলেন। তাঁর স্ট্রোকপ্লে বেশ ভীতিদায়ক ছিল। এরফলে, ‘ব্যাম ব্যাম’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিতকালীন ৪০ গড়ে ১৭৩১ রান সংগ্রহ করেছেন।
১৯৩৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণে সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৩৯ সালে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বার্টি ক্লার্ক, জেফ্রি স্টলমেয়ার ও জন ক্যামেরনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট খেলার গৌরব অর্জন করেন। পরবর্তীতে অবশ্য জিহান মুবারক এ তালিকায় যুক্ত হন। খেলায় তিনি ২০ ও ১৬ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে স্মরণীয় ইনিংস খেলেন। দলের সংগ্রহ ১৬৪/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। প্রথম ৪ ওভার থেকে ৪৩ রান ওঠে। তন্মধ্যে, রেগ পার্কসের এক ওভার থেকেই আসে ২১ রান ও উপর্যুপরী চারটি চারের মার ছিল। ভিক স্টলমেয়ারের সাথে ১০০ মিনিটে ১৬৩ রান তুলেন। এরপর, ডেরেক সিলি’র সাথে ৬২ রানের জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে অবশ্য ওয়ালি হ্যামন্ড দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি। ১৩৫ মিনিট থেকে ১৩৭ রান তুলেন। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তিন ইনিংস খেলে ৫৭.৬৭ গড়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রায়শঃই ইভান ব্যারোকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলোয় উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটায় আর কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। বিশ্বযুদ্ধের পর খেলা শুরু হলেও আর নিজেকে পূর্বের ন্যায় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাড়া জাগাতে পারেননি।
যুদ্ধ শেষ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। নার্স হিসেবে কাজ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন ও ছয় সন্তানের জনক তিনি। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে ৮৬ বছর ১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। বিখ্যাত ক্রিকেটার এভারটন উইকসের সাথে তাঁর কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।
