৮ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের অ্যান্সলি উডহাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
অ্যান্সলি কোলিয়ারি দ্বিতীয় একাদশে খেলেন। এ সময়ে ফ্রেড বারাট তাঁকে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে সুপারিশ করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৯২৬ মৌসুমে তাঁকে মাঠকর্মী হিসেবে যুক্ত করা হয়। বামহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেললে কাউন্টির দ্বিতীয় একাদশে খেলার সুযোগ এনে দেয়। আট খেলা থেকে ৩৫ উইকেট নিয়ে অন্য যে-কোন বোলারের চেয়ে দ্বিগুণ এগিয়ে থাকেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের ৩৩৫তম খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ১৯২৭ থেকে ১৯৫২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। লারউডের সাথে ১৯২৭ সালে টেস্টের যাচাই-বাছাইয়ের জন্যে মনোনীত হন। জুন, ১৯২৭ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। উদ্বোধনী খেলায় বেশ সফল হন। ‘নটিংহ্যামশায়ারের দীর্ঘ অনুসন্ধান স্বার্থক। ভালোমানের বামহাতি বোলারের সন্ধান। ভোসের উল্লেখযোগ্য অভিষেক।’ – দৈনিকগুলো তাদের সংবাদ শিরোনাম হিসেবে প্রকাশ করে। তিনি ২৪-১২-৩৬-৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের সাফল্য টেস্ট দল নির্বাচকমণ্ডলীর অগোচরে ছিল না। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ড বনাম রেস্ট টেস্ট ট্রায়ালের মধ্যকার খেলায় অংশ নেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমের শীতকালে এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের জন্যে মনোনীত হন।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রেডি ক্যালথর্পের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১২০ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৭০ পান। ঐ খেলায় ১৪৯ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করে সফরের সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ সফরে ও টেস্টগুলোয় সর্বাধিক উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন। সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৮১ ও ০/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২০ ও ৬* রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৪৫ ও ৪/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ২৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪১* ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০৬ ও ৪/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৪০ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রানে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অরন্টেস জাহাজযোগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যান। বডিলাইন সিরিজে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হ্যারল্ড লারউডকে সাথে নিয়ে অন্যতম সেরা বোলিং জুটি গড়ে বডিলাইন আক্রমণে অংশ নেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্টেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন ও দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/১১০ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়।
১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৬ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৪১ ও ৪/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪* ও ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ উদ্বোধনে অংশ নেন। আট-বল নিয়ে গড়া নিজস্ব প্রথম ওভারের সপ্তম বলে ও’ব্রায়ানকে স্লিপ অঞ্চলে কট আউটে বিদেয় করেন। ডন ব্র্যাডম্যান মাঠে নেমে তাঁর প্রথম বলে শর্ট-লেগ অঞ্চলে কট আউটের শিকার হন। খেলার তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাককাবেকে কট আউটে বিদেয় করলে চার বলে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার প্রধান তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। এ পর্যায়ে তিনি ইংল্যান্ডের প্রধান বোলার ছিলেন ও নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করছিলেন।
একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৪৯ ও ৩/১২০ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
এরপর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চাক ফ্লিটউড-স্মিথের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৯ ও ১/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়।
১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৪০ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেকধারী ব্রুস ডুল্যান্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৬ জুন, ১৯৮৪ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের লেন্টন এলাকায় ৭৪ বছর ৩০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
