১৩ অক্টোবর, ১৯৫৬ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে দূরন্ত খেলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে অংশ নেন। ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে তিন খেলার সবকটিতে অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য কোন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১১ জুন, ১৯৭৫ তারিখে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৫ রান খরচ করলেও উইকেটশূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১৪ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে ফয়সালাবাদে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী সফরের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ব্যাট হাতে বেশ হিমশিম খান। সাত নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। নতুন বল হাতে নিয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনায় অগ্রসর হলেও মাঝে-মধ্যে ব্যবহৃত হতেন। প্রথম ইনিংসে ১/২৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।
পরের মৌসুমে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। এটি তাঁর নিজস্ব দ্বিতীয় ও সর্বশেষ টেস্ট ছিল। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে ৭৭ রানের ইনিংস উপহার দেন। প্রথম ইনিংসে ২৩০ রানে এগিয়ে যাবার সুবাদে তাঁর এ ইনিংস শুধুমাত্র খেলাকে রক্ষা করতেই অবদান রাখেনি; বরঞ্চ জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ভারত দল ১৩৫/৭ তুললে শ্রীলঙ্কা দল জয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল। দিলীপ মেন্ডিসের জোড়া শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। একই সফরের ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে দিল্লিতে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
এরপর থেকে শ্রীলঙ্কা দলের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে নিজের যথার্থতা প্রমাণে এগিয়ে আসেন। তবে, ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের কারণে আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ১৯৮৯ সালে নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে মুক্তি পেয়ে আরও দুই বছর ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।
৯ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোয় ঘুমন্ত অবস্থায় মাত্র ৪২ বছর ২৭ দিনে বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
