২৪ অক্টোবর, ১৯৬৭ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন। ক্যারিবীয় পেস বোলিংয়ের সর্বশেষ সেরা বোলার হিসেবে কার্টলি অ্যামব্রোসের সাথে বোলিং উদ্বোধনে নেতৃত্ব দিতেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন, ভীতিদায়ক ভয়ঙ্কর প্রকৃতির ফাস্ট বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে সম্ভাবনার দ্বারকে রুদ্ধ করে ফেলে।
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ক্ষীপ্রগতিতে দ্রুততার সাথে ফাস্ট বোলিং করতেন ও সেরা ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৪৩ টেস্ট ও ৮৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ মে, ১৯৮৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। টেস্টে অভিষেকের পূর্বে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জর্জটাউনের বোর্দায় অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিকে তাঁর বল কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তের হাতে বল লাগলে ফাটল ধরা পড়ে। সাড়ে ছয় বছর পর ১৯৯৫ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে রবিন স্মিথের চোয়ালে বল লাগে।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে দিলীপ বেঙ্গসরকারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলায় তিনি কপিল দেবের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ভারতের অসহায় আত্মসমর্পণে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন। তন্মধ্যে, ব্রিজটাউনে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে ৬/৮৭ লাভ করেছিলেন। এক বছরের মধ্যেই কার্টলি অ্যামব্রোসের সাথে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণে অগ্রসর হন। অ্যান্টিগুয়ায় সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে আট উইকেট পান। এমনকি, ১৯৯০ সালে ফয়সালাবাদ ও লাহোরের নিষ্প্রাণ উইকেট থেকেও সফলতা লাভ করেছিলেন। এরপর থেকে খেলায় ক্ষুরধার বোলিং করতে থাকেন। এ পর্যায়ে ১১ টেস্ট থেকে ২০.৫৮ গড়ে ৫৩ উইকেট পেয়েছিলেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৭২ ও ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যালান ল্যাম্বের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজেই ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯০-৯১ মৌসুমে ডেসমন্ড হেইন্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। পুরো সিরিজে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে তৎপরতা দেখান। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বিখ্যাত ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা’র অভিষেক ঘটা টেস্টে দূর্দান্ত খেলেন। ৫/৪১ ও ২/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৯ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কার্ল হুপারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ হয়। ৩২ রান ও ১৬ উইকেট লাভ করে ওয়াসিম আকরামের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৩ ও ৩/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১২৪ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
টেস্টের ন্যায় ওডিআইয়েও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। পার্থে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫/২৭ পেয়েছিলেন। তবে, ১৯৯১ সালের শুরুতে পিঠে ফাটল ধরা পড়লে দ্রুত অগ্রসরমান খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। সুস্থ হবার পর বোলিং ভঙ্গীমায় পরিবর্তন ঘটান। আউট-সুইঙ্গারও বেশ কার্যকর ছিল।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৪ ও ২/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন সীমিত হয়ে পড়ে। ১৯৯৮ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শেষ ওভারে জয়লাভকালীন ধারাভাষ্যে ছিলেন। ধারাভাষ্যের দায়িত্ব পালনের মাঝেই এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন।
