|

তানজিদ হাসান

১ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট্ট শহর বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী তানজিদ হাসান, তামিম ডাকনামে পরিচিত। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বেক্সিমকো ঢাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পেশাওয়ার জালমি, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, ঢাকা ক্যাপিটাল, খুলনা টাইগার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রাজশাহী বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত পূর্বাঞ্চল বনাম দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন।

তামিম ইকবাল যুগের অবসানের পর সাদা-বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পছন্দের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি লাভ করেন। তামিম ইকবালের ন্যায় আক্রমণাত্মক ধাঁচে বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। শীর্ষস্তরের ক্রিকেটে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছেন।

কিছুকাল বাংলাদেশ দলের বাইরে ছিলেন। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসের সাথে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেন। এরপর, ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিপিএলে দূর্দান্ত খেলে নিজেকে সামনের দিকে নিয়ে আসেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুরোপুরি অংশগ্রহণ করতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ঐ বছর টি২০আইয়ে ৭৭৫ রান তুলেন। এ সংখ্যাটি যে-কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের চেয়ে এগিয়ে। ১৩৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহও দলে যুক্ত করতে বিশাল ভূমিকা রাখে। প্রত্যেক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছক্কা হাঁকাতে মনোনিবেশ ঘটান।

রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ না নিলেও এর পরপরই নিজস্ব প্রথম আন্তর্জাতিক শতরানের সন্ধান পান। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওডিআই সিরিজ জয় করে নেয়।

পিতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিছুসময় রাজশাহীভিত্তিক বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশে পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আই ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৬ সালে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৬ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, লিটন দাসের অসাধারণ ক্রীড়া সাফল্যে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট