|

নাহিদ রানা

২ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছেন।

২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পেশাওয়ার জালমি, রংপুর রাইডার্স, খুলনা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৩১ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম অংশ নেন।

ক্রিকেট খেলার প্রতি তাঁর পরিবারের অনাগ্রহ ছিল। কেবলমাত্র এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য্য হবার পরই তাঁকে ক্রিকেট খেলার শর্ত দেয়া হয়। তিনি এ শর্তগুলো পালন করেন ও এভাবেই ১৮ বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। শারীরিক কাঠামো বিশেষতঃ উচ্চতার কারণে দ্রুতগতিসম্পন্ন বল ডেলিভারি করার ক্ষমতা অর্জন করেন। এরফলে, বয়সভিত্তিক দলে সমসাময়িকদের পাশ কাটিয়ে সোজা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান।

মাত্র ১৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৬৩ উইকেট লাভ করলে তিনি বাংলাদেশের প্রধান কোচ চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা’র সুনজরে পড়েন। চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা তাঁকে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের বিপক্ষে তাঁকে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩/৮৭ ও ২/১২৮ লাভ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ০ পান। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২৮ রানে পরাজয়বরণ করেছিল। তাঁর প্রথম বলটি ঘণ্টাপ্রতি ১৪৬ কিলোমিটার গতিবেগের ছিল। তিনি যথাসম্ভব বলগুলো দ্রুতগতিসম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন।

খেলার নবম ওভারে বল হাতে নিয়ে পেস হাতে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সকলকে মুগ্ধ করেন। তবে, তাঁর প্রভাব পুরোপুরি লঙ্কান ব্যাটসম্যান ধনঞ্জয় ডি সিলভা ও কামিন্ডু মেন্ডিসের কাছে পড়েনি। তাঁরা শর্ট কিংবা ওয়াইড বলগুলো যথেচ্ছ শাস্তি দেন। ষষ্ঠ উইকেটে ২০২ রানের জুটি গড়লে টাইগাররা হাল ছেড়ে দিলেও তিনি খেলায় ফিরিয়ে আনেন। এবাদত হোসেনের আঘাতের পর তিনি অতিরিক্ত বাউন্স সহযোগে ক্রমাগত পেস বোলিং করতে থাকেন। মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়ের শতক হাঁকানোর পর তৃতীয় অধিবেশনে তাঁদের উইকেটগুলো কব্জা করেন। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামস তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি প্রতিভাবান। খুব দ্রুতগতিসম্পন্ন। প্রায় প্রত্যেক বলই ঘণ্টাপ্রতি ১৪৫ কিলোমিটার গতিবেগের ছিল। তাঁর বোলিং ভঙ্গীমাও মনোমুগ্ধকর। তিনি সবেমাত্র শুরুরদিকে রয়েছেন। তাঁকে অনেক শিখতে হবে তবে তিনি প্রতিভাধর।’

২০২৪ সালে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানে বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/১০৫ ও ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে অসিত ফার্নান্দো’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৬ সালে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ মে, ২০২৬ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১০৪ ও ৫/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৬০ ও ২/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, লিটন দাসের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফো’র ২০২৪ সালের সেরা সাতজন পুরুষ তরুণ অভিষেকধারীর পুরস্কারের জন্যে মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আল্লাহ গজনফর, ধ্রুব জুরেল, জ্যাকব বেথেল, নীতিশ কুমার রেড্ডি, অটনিল বার্টম্যান ও শামার যোসেফের সাথে তাঁকে রাখা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট