১৮ জুন, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডের পাপাকুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৪ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ড্রু জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, মাত্র ছয় টেস্টে অংশগ্রহণের পরপরই কাঁধের সমস্যায় তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। এরফলে, প্রায় এক বছর আন্তর্জাতিক খেলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন।

তাঁর পরিবর্তে দলে ব্রায়ান ইয়ংকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর থেকে দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে দলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। ১৯৯৭ সালের শুরুতে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন ৭০ রানের সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৮৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২০ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের অপরূপ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২০ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩০ ও ৬৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্টিভ ওয়াহ’র দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে পায়ের আঙ্গুলে আঘাতের পর বৃদ্ধাঙ্গুলী ভেঙ্গে গেলে ১৯৯৮ সালের অধিকাংশ সময়ই মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে ম্যাট হর্ন টেস্টে সফলতার সাথে ইনিংস উদ্বোধনে অগ্রসর হন। অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের অবস্থানটি ফাঁকা রয়ে যায়। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী ব্রায়ান ইয়ং, ম্যাথু বেলরজার টোজের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন। অকল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তিনি নবনিযুক্ত কোচ ডেভিড ট্রিস্টের পছন্দের বিষয়টি জানতেন ও ঐ গ্রীষ্মে টেস্ট দলে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে আঘাতের কবলে পড়লে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট