২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে সেন্ট লুসিয়ার মাইকোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
উইলসন স্যামি ও ক্লারা স্যামি দম্পতির সন্তান ছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সতেরো বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে সেন্ট লুসিয়া, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হোবার্ট হারিকেন্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, নর্দার্ন উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস, সেন্ট লুসিয়া জুকস, স্ট্যানফোর্ড সুপারস্টার্স, পেশাওয়ার জালমি, ব্রাম্পটন উল্ভস, টরন্টো ন্যাশনালস ও রাজশাহী কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট, ১২৬টি ওডিআই ও ৬৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৮ জুলাই, ২০০৪ তারিখে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোন বল মাঠে গড়ানো বাদেই খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। এরফলে, প্রথম সেন্ট লুসীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার গৌরব অর্জন করেন। দুই মাস পর দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১/১৯ লাভ করেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পরপরই আঘাতের কবলে পড়েন। এরফলে, কয়েকটি খেলায় অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তীতে দলের সাথে যোগ দেন।
২০০৭ সালে রামনরেশ শারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭/৬৬ পেয়েছিলেন। এ দূরন্ত সাফল্য প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা জয়লাভ করতে পারেনি কিংবা নিজেকে অভিষেকের সেরা একাদশেও ঠাঁই করে নিতে পারেননি। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২৫ রান তুলেছিলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি মন্টি পানেসরের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৮ জুন, ২০০৭ তারিখে কেনসিংটন ওভালে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন। সকল মৌসুমেই দূরন্ত খেলেছেন। খেলোয়াড় ও নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল।
২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ ও সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে বোলিং ১/৩৮ ও ৫/৭০ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১১ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১২ মে, ২০১১ তারিখে প্রভিডেন্সে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২/১৬ ও ৫/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১২ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪০ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলা উপহার দিয়েছিলেন। সাত খেলায় অংশ নিয়ে দুইবার তিন-উইকেট লাভ করেন। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক হিসেবে ক্রিস গেইলের স্থলাভিষিক্ত হন। ঐ বছরের শেষদিকে সকল স্তরের ক্রিকেটে দলনেতা হিসেবে মনোনীত হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর ব্যাটিংয়ের সবিশেষ উত্তরণ ঘটে। ২০১২ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আট বছরের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
২০১২ সালে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে পৌঁছানোকালে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৬ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোর পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সুনীল নারাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১২-১৩ মৌসুমে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৩ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ২/৮৩ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে দলের ৭৭ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরফলে, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে তাঁর দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৭* ও ৮০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৯ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ক্যাথি ড্যানিয়েল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ড্যারেন ড্যান স্যামি জুনিয়র নামীয় সন্তান ও স্কাই স্যামি নাম্নী এক কন্যার জনক।
