| |

হ্যারি স্মিথ

২১ মে, ১৮৯১ তারিখে ব্রিস্টলের ফিশপন্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

শৈশবকাল থেকে ফ্রেঞ্চয় ক্রিকেট ক্লাবে খেলতেন। দলটিতে পিতা জর্জসহ স্বীয় ভ্রাতা আলবার্ট আইজাক খেলেছেন। ক্লাবের সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ১৯১২ থেকে ১৯১৩ সময়কালে ফ্রেঞ্চয় ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়কত্ব করেছেন। অনেক রান সংগ্রহ করেছেন ও নিশ্চিত পরাজয়ের কবল থেকে দলকে রক্ষা করেছিলেন। চমৎকার ব্যাটসম্যান ও দূর্দান্ত বোলার হলেও তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯১২ সালে ক্লাবের পক্ষে একটি খেলায় অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পরপরই ‘আবিষ্কার’ হিসেবে চিত্রিত হন। ১৯১৪ সালে জ্যাক বোর্ডের পরিবর্তে উইকেট-রক্ষক হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৩২ সালে অসুস্থতার কবলে পড়ার পূর্ব-পর্যন্ত উইকেট-রক্ষণভাগ বেশ ভালোভাবে সামলে নিয়েছিলেন। ১৯২৭ সালে উপর্যুপরী চার ইনিংসে কেবলমাত্র একটি বাই-রান দেন; এ পর্যায়ে প্রতিপক্ষ ২৩ উইকেট খরচ করে ১৩৭৪ রান তুলেছিল। ১৯৩৫ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে দলে ফিরে আসেন। তবে, নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেননি।

১৯২৮ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডগলাস জার্ডিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। তবে বার্ট স্ট্রাডউইকের শ্রেয়তর ভূমিকায় আর টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

কয়েক মৌসুম গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। গ্রীনব্যাংকে নর্দাম্পটনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় £১,১৫০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেছিলেন। সব মিলিয়ে ৪০২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে দশ শতক সহযোগে ১৩৪১৩ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে এক খেলা থেকে দুইটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পান। প্রথম বিভাগে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সে ইনসাইড ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতেন। তবে, আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতেই তাঁর ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে বিরত থাকতে হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কিছু সময় কাউন্টির কিশোর দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১২ নভেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে ব্রিস্টলের ডাউনএন্ড এলাকায় মাত্র ৪৬ বছর ১৭৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট