১৯ জুলাই, ১৯৭৭ তারিখে কেন্টের পেমবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক, সাংবাদিক ও লেখক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘স্মাজ’ ডাকনামে ভূষিত এড স্মিথ ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। টনব্রিজ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে টেস্ট খেলেছেন। খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। ড্রাইভের দিকে অধিক জোর দিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০৩ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। কেন্টের পক্ষে ছয়টি শতরানের ইনিংস খেলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৩ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ গ্রীষ্মে সর্বাগ্রে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। নাসের হুসাইনের অধিনায়কত্ব থেকে অব্যহতিতে ইংল্যান্ড দলের পুণর্গঠনের প্রয়োজন পড়ে। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে ইংরেজ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ঐ বছর গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৪ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জেমস কার্টলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ইংল্যান্ডের পক্ষে পঞ্চদশ ‘স্মিথ’ বংশনামে খেলেন। শন পোলক, মাখায়া এনটিনি’র ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ৬৪ রান তুলেন। তবে, পরবর্তী চার ইনিংসে ০, ০, ৭ ও ১৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অপর অভিষেকধারী জেমস কার্টলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ৭০ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্কাস ট্রেস্কোথিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৪ সালে কেন্টের সাজঘরে গুঞ্জন সৃষ্টি হয় যে তিনি দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অতঃপর, ঐ গ্রীষ্মের শেষে দল ত্যাগ করে মিডলসেক্সে চলে যান। মিডলসেক্সের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। দুই মৌসুম ক্রমাগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে থাকেন। ২০০৭ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পায়ের গোঁড়ালীতে জখমপ্রাপ্ত হন। খেলার জগতে প্রবেশের চেষ্টা চালান। অতঃপর, ঐ মৌসুমের শীতকালে অবসর গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে ১৯১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে বারো হাজারের অধিক রান তুলেছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনে শেষে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, ক্রিকেট লেখক, ক্রীড়া লেখক ও এমনকি বেসবল লেখক হিসেবে পরিচিতি ঘটান। পাশাপাশি, সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে ইসিবি’র জাতীয় নির্বাচক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। ২১ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে এ দায়িত্ব শেষ হয়।
