৮ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে সারের মার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার মিকি স্টুয়ার্টের সন্তান তিনি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮১ সালে সারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এর পরপরই আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩৩ টেস্ট ও ১৭০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকের পুরোটা সময় জুড়ে ইংল্যান্ড দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে দলের সাথে ভারত সফর করেন। ১৫ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় অনুষ্ঠিত ছয়দলীয় এমআরএফ বিশ্ব সিরিজে (নেহেরু কাপ) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে প্রবেশ করেন। তবে, ঐ খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। মাত্র ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
ছয় মাস পর ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নাসের হুসাইনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ১৩ রান তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, অ্যালান ল্যাম্বের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজেই ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯০ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। এ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৯০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মাইক অ্যাথার্টনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯১ সালে নিজ দেশে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১১৩* ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রুমেশ রত্নায়েকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও তাঁর ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৩৭ রানে জয় পায়। খেলায় তিনি রুমেশ রত্নায়েকে’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অন্যতম নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, ফিল টাফনেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১০৭ ও ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯২ সালে পাঁচ খেলা থেকে চারটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। তন্মধ্যে, ৪ জুন, ১৯৯২ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তিনি ১৯০ রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসে দূর্দান্ত শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১১৮ ও ১৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২০৮ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৪ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ২৫ রানে থাকা অবস্থায় শন পোলকের মুঠো ফস্কে মাটিতে পড়ে যায়। চতুর্থ দিনে ৩৭ রানে থাকাকালে ড্যারিল কালিনান তাঁর ক্যাচ মুঠোয় পুড়তে ব্যর্থ হন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জ্যাক রাসেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বের পাশাপাশি দলনায়কের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৬ সালে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৮ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে অপূর্ব খেলেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর, ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৪ ও ৫৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মুশতাক আহমেদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৩৯৬ রান সংগ্রহ করে মুশতাক আহমেদের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের ছাঁপ রাখেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্যার আরজে হ্যাডলি বিচারকের ভূমিকায় আসীন থেকে নাথান অ্যাসলে’র সাথে তাঁকে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করেন।
১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ১৬৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তাঁর এ ইনিংসের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করতে সমর্থ হয়। তবে, তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টি ১২ মাসব্যাপী স্থায়ী ছিল। অ্যাশেজ সিরিজসহ ১৯৯৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের দূর্বল ফলাফলের প্রেক্ষিতে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেন। তাসত্ত্বেও, আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটসম্যান-উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। কেবলমাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে নিজস্ব শততম টেস্টে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত খেলেছিলেন তিনি। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪০ ও ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বক্সিং ডে পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৭ ও ৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডিন হ্যাডলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৯৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৫০ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাট হর্নের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০১ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ২০০১ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে শেন ওয়ার্নের ৪০০তম টেস্ট উইকেট শিকারে পরিণত হন। খেলায় তিনি ২৯ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শেন ওয়ার্নের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। শেন ওয়ার্নের অসাধারণ বোলিংয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৩ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। খেলার সঙ্কটময় মুহূর্তে তিনি ৪৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন।
২০০৩ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, মার্কাস ট্রেস্কোথিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। এ টেস্টের পর আর তাঁকে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অবসর গ্রহণকালীন ইংল্যান্ডের সর্বাধিকসংখ্যক টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বি-শতক হাঁকানো ব্যতিরেকে সর্বাধিকসংখ্যক রান সংগ্রহের ন্যায় অগৌরবজনক রেকর্ডের অধিকারী হন। টেস্টে সব মিলিয়ে ৮৪৬৩ রান তুলেছেন। এ সংখ্যাটি তাঁর জন্মতারিখ ৮.৪.৬৩-এর সাথে মিল রয়েছে। এছাড়াও, পল কলিংউডের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক ওডিআইয়ে অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট বিশ্বে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে এমবিই ও ২০০৩ সালে ওবিই উপাধীতে ভূষিত হন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর গণমাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়েন। স্কাই স্পোর্টস ও বিবিসিতে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন। ক্লাইডসডেল ব্যাংকের শুভেচ্ছা দূত তিনি। এছাড়াও, সারের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি, অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ফুটবলের প্রতি তাঁর সুগভীর অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। ফুটবলের ব্যবস্থাপক ধাঁচ প্রয়োগের কারণে ‘গফার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। লিন স্টুয়ার্টের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে তাঁর স্ত্রী প্রয়াত হন।
