| |

ব্রুস ফ্রেঞ্চ

১৩ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ওয়ারসপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। ওয়েলবেক কোলিয়ারি ক্রিকেট ক্লাবকে ঘিরে তাঁদের উত্থান ঘটে। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা চার্লি উইকেট-রক্ষক হলেও ব্যাট প্রস্তুতকারক হিসেবেই অধিক সুনাম অর্জন করেছেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নটস দ্বিতীয় একাদশে খেলেছেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা নীল লিঙ্কনশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রাতৃষ্পুত্র জ্যাক বল তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে নটস প্রথম একাদশসহ ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৮৬ সালে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জুন, ১৯৮৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। দিলীপ বেঙ্গসরকারের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮৬ সালে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯৮৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে থেকে প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ ২৫৯/৬ থাকাকালে শূন্য রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নামেননি। তবে, গ্রাহাম গুচের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। হাস্যকর দূর্ঘটনার সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে দর্শকের আঘাতে মাঠ থেকে তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে প্রবেশপথে অপর একটি গাড়ী তাঁর গাড়ীকে ধাক্কা মারে। সেলাইয়ের পর নীচুতে ঝোলানো বৈদ্যুতিক বাতিতে মাথা লাগে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে শরীরচর্চাকালীন কুকুর তাঁকে কামড়ায়।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে জ্যাক রিচার্ডসের সাথে দলে স্থান লাভের প্রশ্নে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। এছাড়াও, উদীয়মান জ্যাক রাসেলও এতে যুক্ত হন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ মার্চ, ১৯৮৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯০ সালে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ সরব ছিলেন। এ পর্যায়ে নিজের ব্যাটিং উত্তরণে মনোনিবেশ ঘটান। নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে ডার্বিশায়ার ও ডারহামের বিপক্ষে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, ডারহামের বিপক্ষে ১২৩ রান সংগ্রহ করেন ও ক্রিস লুইসের সাথে ৩০১ রানের জুটি গড়েন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ইংল্যান্ডের উইকেট-রক্ষক কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দীর্ঘদিন এ দায়িত্ব পালনের পর ১১ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে জেমস ফস্টারকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এছাড়াও, পর্বত আরোহনে অংশ নিয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট