৩০ জুন, ১৯৮৮ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট লুসি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে নিয়মিতভাবে বোলিং করতেন। ২০০৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলেছিলেন।
২০০৮ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যান্টিগুয়া হকসবিলস, জ্যামাইকা তল্লাজ, সাজিকর হাই পারফরম্যান্স সেন্টার, সেন্ট লুসিয়া জুকস, ব্রিসবেন হিট, ডেকান চার্জার্স, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও ওয়েয়াম্বা ইউনাইটেডের পক্ষে খেলেছেন। ৪ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস বনাম বার্বাডোসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে সারে দলের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। চারটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০০৮ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় ২/২৯ লাভ করেন। পরবর্তীতে, বারমুডার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন।
বোর্ডের সাথে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মতবিরোধের জের ধরে টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চাদউইক ওয়ালটন, ডেল রিচার্ডস, নিকিতা মিলার, ওমর ফিলিপস, রায়ান অস্টিন ও ট্রাভিস ডাউলিনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৬ ও ৩/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। খুব সহজেই নিজেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে চিত্রিত করেন। এমনকি, সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে রিকি পন্টিংকে রিটায়ার হার্ট করান।
২০১০-১১ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫/১০০ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। গ্রুপ-পর্বের দ্বিতীয় খেলায় নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলেন। হ্যাট্রিকসহ ছয়-উইকেট পেয়েছিলেন। সম্মুখসারির পেসারদের উপস্থিতি সত্ত্বেও তাঁর খেলায় বিরূপ প্রভাব ফেলেনি। ২০১১ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। সাদা-বলের ক্রিকেটে সফলতা লাভের পর দীর্ঘ সংস্করণের খেলার দিকে মনোযোগী হন।
২০১২ সালে নিজ দেশ সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নিজস্ব প্রথম দশ উইকেটের সন্ধান পান। ঐ সিরিজে ১৯ উইকেট দখল করে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।
২০১২ সালে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২/৫৫ ও ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সুনীল নারাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে দিনেশ রামদিনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ২/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, আঘাতের কবলে পড়লে কোন ইনিংসেই মাঠে নামতে পারেননি। তবে, হাশিম আমলা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজে ইনিংস ও ২২০ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১৪* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। নীল ওয়াগনারের অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১৭ ও ০/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বেন স্টোকসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, জেসন হোল্ডারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিং নেমে ২৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪১ ও ২/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২২-২৩ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭১ ও ৫/৪৭ পান। এছাড়াও, ৪* ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এইডেন মার্করামের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৩ সালে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৩ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দূর্দান্ত বোলিং ও যশস্বী যশওয়ালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশী দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৭ ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩০ ও ৩/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভসের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ২০১ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৫ ও ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জোমেল ওয়ারিকানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২০ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০* ও ৫৮* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৭ ও ৫/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভসের স্মরণীয় অল-রাউন্ড ক্রীড়া সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৬ সালে লর্ড গ্যাভরন পুরস্কার লাভ করেন।
