১৬ মে, ১৯৮২ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০১৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজ ও ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৭ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে ডিসকভারি বে’তে অনুষ্ঠিত জ্যামাইকা বনাম লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৭-০৮ মৌসুমে স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেন। ক্যারিব বিয়ার চ্যালেঞ্জ ট্রফিতে সর্বাধিক উইকেট শিকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওডিআই দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৫০টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুইটি ওডিআইয়ে তাঁকে প্রথমবারের মতো খেলানো হয়। ৪ জুলাই, ২০০৮ তারিখে বাসেতেরেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন। দারুণ বোলিং করেন ও তাঁকে পরবর্তী প্রতিযোগিতাগুলোয় খেলার উদ্দেশ্যে দলে রাখা হয়।

বিস্ময়করভাবে বোর্ডের সাথে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মতবিরোধের জের ধরে টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ পর্যায়ে ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে চাদউইক ওয়ালটন, ডেল রিচার্ডস, কেমার রোচ, ওমর ফিলিপস, রায়ান অস্টিন ও ট্রাভিস ডাউলিনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে বাসেতেরেতে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। তবে দীর্ঘদিন খেলতে পারেননি। নিউজিল্যান্ড সফরকে ঘিরে ২০১৪ সালে তাঁকে পুণরায় দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু, নিউজিল্যান্ড সফরে টি২০আইয়ে আবারও তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। দুই খেলা থেকে দুইটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

অন্যান্যরা সফল হলেও তিনি দলে সুবিধে করতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও জ্যামাইকার পক্ষে বেশকিছু বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০১৩ সালে বোর্ড কর্তৃক বর্ষসেরা প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান স্পিনার সুনীল নারায়ণকে সন্দেহজনক বোলিংয়ের কারণে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হলে শেষ মুহূর্তে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ঐ প্রতিযোগিতায় একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্যানবেরায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬.৩ ওভার বোলিং করে ১/৪৮ লাভ করেছিলেন।

এরপর, নিউজিল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে পুণরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ক্রাইস্টচার্চে একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৩৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের কোচিং কমকর্তা হিসেবে যোগ দেন। মাঝে-মধ্যে জ্যামাইকা দলে কাজ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট