| |

শ্রীধরন জগন্নাথন

১১ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে আঘাতের কবলে নিপতিত সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৪ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মিত্র ওয়েতিমুনি, সুশীল ফার্নান্দো, গাই ডি অলউইস, রুমেশ রত্নায়েকে, বিনোদন জন ও যোহন গুণাসেকেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়ারেন লিসের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয়টিতেই ইয়ান চ্যাটফিল্ডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো উপর্যুপরী দুই টেস্টে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এছাড়াও, একই সফরের ২০ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে অকল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

তাঁর জন্যে এ সফরটি পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। চার ইনিংসে এক অঙ্কের রান সংগ্রহ করেন ও সর্বমোট ৪.৭৫ গড়ে ১৯ রান তুলতে পেরেছিলেন। কিন্তু, কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।

কিছু সময় দলের বাইরে থাকেন। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিচি রিচার্ডসনকে বিদেয় করেন। এরপর, পুনেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার আট উইকেটে পরাজিত হওয়া খেলায় গ্রাহাম গুচ ও টিম রবিনসনকে বিদেয় করে ২/৪৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত পাঁচটি ওডিআইয়ের মধ্যে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ ছিল। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।

সব মিলিয়ে ৪১.৬০ গড়ে পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন ও ৮.৩৩ গড়ে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯৭৯ সালের আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ৪/৯২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

স্বল্প সময়ের জন্যে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে, উভয়ক্ষেত্রেই বর্ণহীন খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় বামহাতি স্পিনার হিসেবে নিখুঁতমানের বোলিং করতেন। অবিরাম ও দীর্ঘ সময় ধরে চমৎকার বোলিং করে ব্যাটসম্যানদেরকে আউট হতে উজ্জ্বীবিত করতেন। কিন্তু, তাঁর ধাঁচের বোলিং থেকে বেশ বড় ধরনের স্ট্রাইক রেট চলে আসে ও দলে কখনো নিজেকে উপযোগী স্পিনার হিসেবে মেলে ধরতে পারেননি। ব্যাটসম্যান হিসেবে নিচেরসারিতে খেলতে নামতেন। তবে, দলে তাঁর অবদান তেমন আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু, ব্যাটিংয়ে পারদর্শীদেরকে সঙ্গ দিয়ে জুটি গড়তে সহায়তা করতেন।

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ৩১.৬১ গড়ে ৪৯ উইকেট এবং ১৩.৬৬ গড়ে ৪৩৭ রান তুলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তুলেছেন। ডেভনপোর্টে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ৭৪ রান করেন। এ পর্যায়ে দলীয় সংগ্রহ ৮৯/৭ থাকা অবস্থায় অষ্টম উইকেটে রবি রত্নায়েকে’র (৬৪*) সাথে ১৪০ রানের জুটি গড়েন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। মালয়েশিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। বিসি জগন্নাথন নামীয় সন্তানের জনক। ১৪ মে, ১৯৯৬ তারিখে মাত্র ৪৪ বছর ৩০৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এরফলে, প্রথম শ্রীলঙ্কান টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মৃত্যুমুখে পতিত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট