| |

টম কার্টরাইট

২২ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের অল্ডার‍ম্যান্স গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ছয় ফুটের অল্প কম উচ্চতার অধিকারী। শীর্ণকায় গড়ন নিয়ে বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণ ও কাটার প্রয়োগের দিকে অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। পেশাদারী পর্যায়ে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। চাতুর্য্যতার সাথে নিখুঁতভাব বজায়, ধৈর্য্যশীলতা ও পূর্ণাঙ্গ শক্তিমত্তা প্রয়োগে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। বছরের পর বছর বোলিং গড়ে শীর্ষে আরোহণ করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, সমারসেট ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অধিকাংশ খেলাই ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। পরবর্তীতে সমারসেটের সদস্য হন। ওভারপ্রতি দুই রানের কম খরচ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫৩৬টি ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১৭২টি উইকেট দখল করেছেন।

পাঁচটিমাত্র টেস্ট খেলা নিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে উঠে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ঐ টেস্টগুলো খেলেন। ঐ বছর নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। ফ্রেড রামসে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ রান সংগ্রহকালে ৭৭ ওভারে ২/১১৮ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৫ সালে নিজ দেশে ডেনিস লিন্ডসে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৯৪ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফলতা পেতে বেশ হিমশিম খান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতে প্রবেশ করেন। কোচ হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইয়ান বোথামের শুরুরদিকের খেলোয়াড়ী জীবনে অবদান রেখেছিলেন। ওয়েলসীয় ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ৩০ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে ৭১ বছর ২৮২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁকে ঘিরে স্টিফেন চক ‘টম কার্টরাইট-দ্য ফ্লেম স্টিল বার্নস’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট