৯ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথরিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের শেল ট্রফি প্রতিযোগিতায় ওয়েলিংটনের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর শতক হাঁকিয়ে নিজের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন। উইকেটের সর্বত্র শট খেলার কারণে অনেকেই তাঁকে মার্টিন ক্রো ও অ্যান্ড্রু জোন্সের ন্যায় তারকা ক্রিকেটারের সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে চিত্রিত করে। তবে, শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে আরও তাঁকে তিন বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।
১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩৩ টেস্ট, ৫৪টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ব্যাসিন রিজার্ভ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুড়ি ছোটান। প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। রোজ কিং ও কোর্টনি ওয়ালশের ন্যায় তারকা বোলারদের উপর এক চোট নেন। অভিষেকে দ্বি-শতরানের রেকর্ড গড়েন। প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। তৃতীয় উইকেটে দলীয় অধিনায়ক এসপি ফ্লেমিংয়ের সাথে ২১৪ মিনিটে ১৬৪ রান সংগ্রহ করেন। এরপর, চতুর্থ উইকেটে এনজে অ্যাসলে’র সাথে ২৪৬ মিনিটে ১৮৯ রান তুলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
তবে, ২০০০ সালের শেষদিকে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে দলের বাইরে রাখার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে পোর্ট এলিজাবেথে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন শতক হাঁকান। অ্যালান ডোনাল্ড, মাখায়া এনটিনি, শন পোলক প্রমূখের বল আত্মবিশ্বাস নিয়ে মোকাবেলা করেন ও নিখুঁতমানের স্ট্রোক খেলেন। সামনের পায়ে ভর রেখে শন পোলকের বলগুলোকে অফ-ড্রাইভে প্রেরণে দর্শকদের নির্মল আনন্দ দেন। উত্থান-পতনে ভরা টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনকে চলমান রাখতে চাইলে দূর্ভাগ্যবশতঃ তা আর হয়ে উঠেনি।
২০০০-০১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৪৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পল ওয়াইজম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৭০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৫০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, নীল ম্যাকেঞ্জি’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও বড় ধরনের ইনিংস খেলতে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। এমনকি এ টেস্টের পূর্বেও তাঁকে দলে বাইরে রাখার চিন্তাধারা ছিল। অকল্যান্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টে দৃশ্যতঃ খেলার বাইরে ছিলেন। সাকলাইন মুশতাকের দুসরা মোকাবেলা করতে পারেননি। পাশাপাশি মোহাম্মদ সামি’র সুইং বল মোকাবেলায়ও তাঁকে হিমশিম খেতে দেখা গিয়েছিল।
২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ২০৪* ও ৫০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়। ঐ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে ডাউন আন্ডারের বিপক্ষে ভালো খেলেননি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৪ রান তুলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশ ও ডাউন আন্ডারের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে, নিয়মিতভাবে ইনিংস উদ্বোধনে ব্যর্থ হতে থাকেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১২ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়। একটি টেস্টে অংশ নিয়ে সুবিধে করতে পারেননি ও দল থেকে বাদ পড়েন। ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মার্চ, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ১৭৬ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ৩২.০৫ গড়ে রান তুলে নিজের প্রতিশ্রুতিশীলতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেননি।
টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন উত্থান-পতনে ভরপুর হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রায় দুই দশক সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে একান্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহের পর সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পরিবারকে সহায়তাকল্পে অগ্রসর হন। তবে, সমালোচকদের অভিমত তিনি পায়ের কারুকাজে যথেষ্ট পরিশ্রম করেননি। তবে, যারা তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করেছিলেন তাঁদের অভিমত যে, তিনি অব্যবস্থাপনার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের প্রতিভাবান, সাহসী ক্রিকেটার হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায় শীর্ষস্তরে লক্ষ্যচ্যূত হয়ে পড়েন।
