১২ মে, ১৮৬৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অ্যাবটসফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন ছিলেন। অপ্রচলিত স্পিন বোলিং করতেন। বাউন্স ও পেসের বৈচিত্র্যতার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছয়জন অস্ট্রেলীয় টেস্ট ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে কিউ ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন। এছাড়াও, মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

১৮৯০ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালের পর থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ দুইজন বোলারের অন্যতম হিসেবে মর্যাদা পান।

১৮৯০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কেনি বার্ন, জ্যাক বারেট, পার্সি চার্লটনসিড গ্রিগরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৭ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১* ও ৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০* ও ৬ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে সফরকারীরা ২ উইকেটের নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৮৯৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, ১৯০২ সালের অ্যাশেজে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ দলটির বিপক্ষে ৩১ টেস্টে খেলে ১৪১ উইকেট দখল করে রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে বিখ্যাত বোলার ডেনিস লিলি তাঁর এ সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। ইংল্যান্ডের ভেজা পিচে বেশ ভালোমানের সফলতা পেয়েছিলেন।

১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে বিল ব্রাডলি’র শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭২ ও ২/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধান এগিয়ে যায়।

দুইবার দলকে নেতৃত্ব দিয়ে উভয় টেস্টেই জয় পান। বেশ কয়েক দশক অস্ট্রেলিয়ার সেরা অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মাত্র তিনজন বোলারের অন্যতম হিসেবে দুইবার হ্যাট্রিকের সন্ধান পেয়েছেন। এমসিজিতে এ সাফল্য পান। ১৯০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। মেলবোর্ন টেস্টে হ্যাট্রিক করার পর অ্যাডিলেডে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। জো ডার্লিংয়ের বিশ্রামের কারণে অধিনায়কত্ব লাভের সুযোগ পান। প্রথম দায়িত্ব পেয়ে জ্যাক সন্ডার্সকে কাজে লাগান ও সাত উইকেটে স্বাগতিক দলকে জয় এনে দেন। এমসিজিতে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে ৫/৬২ লাভ করেন ও ২৫৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত সফরকারীদেরকে মন্টি নোবেল ৬/৯৮ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন।

এ সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে সিডনির এসসিজিতে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৬২ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০২ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ১৯০২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খ্যাতনামা ঐ টেস্টে তাঁর দল নাটকীয়ভাবে মাত্র ৩ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরফলে, সফরকারীরা অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করে। খেলায় তিনি ৪/৭৫ ও ৬/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

এরপর, ১১ আগস্ট, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। খেলায় তিনি ৮/৬৫ ও ৪/১০৮ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৪* ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ০* রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ০/১০৩ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৭/২৮ লাভ করেন। স্বাগতিকরা ২১৭ রানে জয় পেলেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। এমসিজি’র পুণর্গঠনের বিষয়টি দেখাশোনা করেন ও দর্শক ধারন ক্ষমতাকে ৭০,০০০-এ নিয়ে যান। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকে তাঁকে ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে সেরা অস্ট্রেলীয় বোলার হিসেবে চিত্রিত করে। ১৮৯৭ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ছয় পুত্র ও দুই কন্যার জনক। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার হথর্ন এলাকায় ৭১ বছর ৯৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট