১৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ২৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ধর্মঘটের কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলশ্রুতিতে, ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে তাঁকে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী আমন্ত্রণ জানায়। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সেলিম ইউসুফ, সেলিম মালিকতাহির নাক্কাসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। পাশাপাশি, ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৯ ও অপরাজিত ৪৩ রান তুলতে সক্ষম হন। ২০৪ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

তবে, এর পরপরই ইংল্যান্ড সফরে দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁকে দলে রাখা হয়নি। তাসত্ত্বেও, ১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরে তাঁকে পাকিস্তান দলে রাখা হয়।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ঐ সফরে একটিমাত্র টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়। ৩/১২৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁকে একদিনের খেলার জন্যে দলে রাখা হয়।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের নিউজিল্যান্ড সফরে যায়। সেখানে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মূলতঃ আঘাতগ্রস্ত দলের শূন্যতা পূরণে নিউজিল্যান্ডে যান। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৬৪ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ওয়াসিম আকরামের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও প্রায় এক দশক প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন ও কোচিং কর্মে নিয়োজিত থাকেন। ২০০৬ সালে চীনের ক্রিকেটারদের কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সম্পৃক্ত পোস্ট