|

জুনায়েদ খান

২৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মাত্রা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে এসেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যাবোটাবাদ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যাবোটাবাদ রাইনোস, মুলতান সুলতান্স, পেশাওয়ার জালমি ও রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৪ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত মুলতান বনাম অ্যাবোটাবাদের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। দূর্বলতম দলের সদস্যরূপে চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে থাকেন। এক পর্যায়ে পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। দুইটি সিরিজে দূর্দান্ত খেলেন। সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে হাম্বানতোতায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে নয় উইকেট দখল করেছিলেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে মোহাম্মদ আমিরের সাথে সর্বাপেক্ষা উদীয়মান তরুণ ফাস্ট বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। চমৎকার পেস ও বড় ধরনের দম নিয়ে অনুকূল পরিবেশে বলকে বাঁক খাওয়ানোয় সক্ষমতা দেখিয়েছেন। অবশেষে, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এ পর্যায়ে অবশ্য সোহেল তানভীরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।

২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে ২২ টেস্ট, ৭৬ ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১ সালে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। এ সফরেই তিনি প্রথমবারের মতো ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নেন।

২০১১-১২ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। আইজাজ চিমা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১/৫৫ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মোহাম্মদ হাফিজের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫/৩৮ ও ১/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১২ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ফিরতি সফরে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩০ জুন, ২০১২ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ৫/৭৩ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে পাল্লেকেলেতে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৭০ ও ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৩* রান সংগ্রহ করেন। তবে, আসাদ শফিকের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করে স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। পরের বছর টেস্ট ও ওডিআই – উভয় স্তরের ক্রিকেটেই আরও সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে তৎপরতা দেখান। সুইং ও সিম বোলিংয়ে দক্ষতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটান। এছাড়াও, পেস ও নিখুঁতভাব বজায় রাখেন।

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্ট ২১.৭৮ গড়ে ১৪ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান ও উইকেটপ্রতি ৪৩ বল খরচের ন্যায় অসাধারণ স্ট্রাইক রেটের অধিকারী ছিলেন।

ভারতের বিপক্ষে তিন-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে ভারতের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ান। ওভারপ্রতি ৩.৬৬ গড়ে আট উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১৪ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৫ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০১৫ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৫ জুন, ২০১৫ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, ধাম্মিকা প্রসাদের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে খেলায় স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট