১০ মে, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সিন্ধু মাদ্রাসাতুল ইসলাম থেকে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তা মৌলানা মুফতি সাহিবদাদ খানের সন্তান। অপর দুই ভ্রাতা – আব্দুল আজিজ ও আব্দুল রশীদ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকে কনিষ্ঠ ভ্রাতা আব্দুল করিমের সাথে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
টেস্টে উইকেট-রক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। কোন ক্যাচ গ্লাভস বন্দী করতে পারেননি। মাত্র একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে স্বীয় নামকে যুক্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ব্যাট হাতে অবশ্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। একটিমাত্র টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পাকিস্তান দলে ছয়জন নতুন খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন। ২৪ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসিফ ইকবাল, বিলি ইবাদুল্লাহ, মজিদ খান, পারভেজ সাজ্জাদ ও শাফকাত রানা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।
২০ বছর বয়সে অপর অভিষেকধারী বিলি ইবাদুল্লাহ’র সাথে খেলায় ২৪৯ রানের জুটি গড়েন। তাঁদের এ জুটির সংগ্রহটি ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম উইকেট জুটির সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে টিকেছিল। ইবাদুল্লাহ ১৬৬ রান তুললেও তিনি ৯৫ রানে রান-আউটের শিকারের পরিণত হন। দুই দিন পর টম ভাইভার্সকে স্ট্যাম্পিং করেন ও পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র টেস্ট ডিসমিসাল ছিল। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
পাঁচ সপ্তাহ পর ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ফিরতি সফরে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। মেলবোর্নের এমসিজিতে পুণরায় দল দু’টি মুখোমুখি হয়। প্রথম ওভারে গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র বল গ্লাভসবন্দীকালীন বৃদ্ধাঙ্গুলী ভেঙ্গে যায়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। দলীয় অধিনায়কের সাথে ৪৬ রানের জুটি গড়েন। নিজে করেন ৩৫ রান। অপরদিকে, ১০৪ ও ৯৩ রানের ইনিংস খেলা হানিফ মোহাম্মদ উইকেট-রক্ষণে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ও পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।
এরপর, প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করে। এ পর্যায়ে নওশাদ আলীকে গ্লাভস হাতে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরের খেলায় অংশ নেন ও শেষ দুই টেস্টে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৪৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন।
এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ১২ ও সোয়া পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। উভয় টেস্টই ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১১ মৌসুমের অধিক সময় নিয়ে ৩৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। একটি শতক সহযোগে ২৮.৭৩ গড়ে ১৫২৩ রান তুলেছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় করাচী হোয়াইটসের সদস্যরূপে করাচী ব্লুজের বিপক্ষে ১১৪ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন। সব মিলিয়ে ৪৬ ক্যাচ ও ১৩টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।
১২ মার্চ, ২০০২ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে ৫৭ বছর ৩৯৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
