| |

ক্রিস্টোফার হেসেলটাইন

২৬ নভেম্বর, ১৮৬৯ তারিখে লন্ডনের সাউথ কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা তাঁর জন্যে বেশ প্রতিকূল ছিল। এটনে প্রথম একাদশে স্থান পেতে ব্যর্থ হন ও কেমব্রিজ ক্রিকেটে ব্লু লাভ করতে পারেননি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। হ্যাম্পশায়ার দলের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে থাকেন। ঐ সময়ে কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ না করলেও বিশের বয়সের শেষদিকে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন।

কয়েক বছর প্রকৃত মানস্পন্ন ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। সেরা ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী হবার সুবাদে উঁচু ভঙ্গীমা প্রদর্শনে বোলিং করতেন। কিন্তু, খেলায় পেসের ধারা পরবর্তীতে আর ধরে রাখতে পারতেন না। ১৮৯৭ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৭ গড়ে ৪১ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমের শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন। ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ঐ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ৫/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জর্জ রো’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় টেস্টে তেমন সফল হননি ও কোন উইকেটের সন্ধান না পেলেও ১৮ রান তুলেছিলেন। একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সামরিকবাহিনীতে চাকুরী করতেন। ফলে, ২৪ বছরের অধিক সময় ধরে খেলোয়াড়ী জীবন অতিক্রম করলেও কেবলমাত্র মাঝে-মধ্যে খেলতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবীধারী হন ও পরবর্তীতে এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনসহ এমসিসি কমিটিতে অনেকগুলো বছর সদস্য ছিলেন।

১৩ জুন, ১৯৪৪ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের ওয়ালহাম্পটন এলাকায় ৭৪ বছর ২০০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট