১১ জানুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব এবং সেবাস্টিয়ানিটিস ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সুযোগের সদ্ব্যবহারে তৎপর হন।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও ৩৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৩৬ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২০ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে নেয়।
কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দারুণ খেলেন। ১২ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ পর্যায়ে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১১ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান তিলকরত্নে’র সাথে দশম উইকেটে ৭৩ রানের জাতীয় রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইজাজ আহমেদের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে পাকিস্তান দল ইনিংস ও ১৭৫ রানে জয়লাভ করে শিরোপা পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তবে, এরপর থেকে টেস্টে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বাক্ষর প্রদর্শন করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, ওডিআই অত্যন্ত কার্যকর বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে বেশ কয়েকজন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলাদের অন্যতম হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে শ্রীলঙ্কা দলে খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বামহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে বলকে উভয় দিক দিয়েই ঘুরানোয় দক্ষ ছিলেন। অনুপযোগী পিচেও স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। তবে, টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষতা প্রদর্শনের ন্যায় দম তাঁর ছিল না। কয়েকটি খেলায় সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর পিছিয়ে পড়েন।
ওডিআইয়ে দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। টেস্টের ন্যায় দ্রুততর বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শন না করলেও সুইংয়ে পারদর্শীতা দেখান এবং নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। মাঝারিমানের সফলতা পেয়েছিলেন। উইকেটে নিজেকে মেলে ধরে উইকেট লাভে সক্ষমতার পরিচয় দিতেন। খেলায় খুব সহজে নিজেকে হাল ছেড়ে দিতেন না। দেরীতে সুইং করানোয় ওডিআইয়ে সফল হয়েছিলেন। মূলতঃ নতুন বল থেকেই এ ধরনের সফলতা পেতেন। এ ধরনের কৌশল গ্রহণের ফলে প্রায়শঃই ব্যাটসম্যানদেরকে রান সংগ্রহের জন্যে দুইবার চিন্তা করতে হতো। খেলার ধরন প্রায় একই পর্যায়ের ছিল। কিন্তু, ২০০০ সালে আঘাতের কবলে পড়তে থাকেন। এরপর, আর খেলায় ফিরে আসতে পারেননি।
