|

নিরোশন ডিকওয়েলা

২৩ জুন, ১৯৯৩ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘নিরো’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ক্যান্ডিভিত্তিক ট্রিনিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। প্রতিশ্রুতিশীল উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। এরপূর্বে বিদ্যালয় ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। পূর্বেকার মৌসুমে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়নশীপে ট্রিনিটি কলেজকে নেতৃত্ব দেন। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কার বর্ষসেরা বিদ্যালয় ক্রিকেটারের পুরস্কার লাভ করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও আনঅর্থোডক্স শটের কারণে সবিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন।

২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডাম্বুলা ভাইকিং, মন্ট্রিল টাইগার্স, সাউদার্ন এক্সপ্রেস, সেন্ট লুসিয়া স্টার্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস ও ট্রিনিটি কলেজের পক্ষে খেলেছেন।

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কলম্বোর এনসিসিতে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব বনাম কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাবের খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক দিনেশ চণ্ডীমলের জাতীয় দলের পক্ষে অংশগ্রহণের কারণে অনুপস্থিতি থাকাকালীন এ দায়িত্ব পালন করতেন। খুব দ্রুত শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া পর্যায়ের সকল স্তরের ক্রিকেট খেলতেন।

২০১৪ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২১ বছর বয়সে ২৪ জুলাই, ২০১৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ঐ টেস্টে ৭২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

তবে, এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। এরপর থেকে খেলার মান দূর্বলতর হতে থাকে ও দল থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে, ১৬ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। মাত্র ৪ রান সংগ্রহ করেন ও দল পরাজয়ের কবলে পড়ে।

তবে, ঘরোয়া আসরে সুন্দর খেলার ধারা অব্যাহত রাখলে পুণরায় জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে চলে আসেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে শ্রীলঙ্কা দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের সুযোগ পান। সিরিজের চতুর্থ ওডিআইয়ে কাগিসো রাবাদা’র সাথে মৌখিক বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে জরিমানার মুখোমুখি হন। এরপর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০আইয়ে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দুইটি আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হন।

২০১৭ সালে দানুষ্কা গুণতিলকা’র সাথে ওডিআইয়ে উপর্যুপরী দুই শতাধিক রানের জুটি গড়ে রেকর্ড গড়েন। সুইপ, স্কুপ ও র‍্যাম্প শটের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআই শতক হাঁকান। এরফলে, তিন শতাধিক রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্বার্থকভাবে শ্রীলঙ্কা দল সম্পন্ন করে রেকর্ড গড়ে।

২০২২-২৩ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৯ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ড্যারিল মিচেলের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট