২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে বাংলা দলের সদস্য হন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। সেমি-ফাইনালে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ২৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ঐ মৌসুমে ৩৪৬ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৮০-এর দশকে ক্রিজে অবস্থানকালে প্রায়শঃই গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের ন্যায় তাঁর খেলার ধরন ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলেছেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুরদিকে হরিয়াণা দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বড় ধরনের ইনিংস খেলার সুবাদে চিপকে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ এনে দেয়।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও ২০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। প্রণব রায়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কটকে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এ সফরের অধিকাংশ সময়ই যশপাল শর্মা’র সাথে গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের কার্যকর জুটির কারণে তাঁকে সাজঘরে অবস্থান করে সময় অতিবাহিত করতে হয়েছিল।

১৯৮২ সালে ভারত দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে কেন্টের বিপক্ষে শতক হাঁকান। তবে, কোন টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। দেশে প্রত্যাবর্তন করে ইরানী ট্রফিতে দূর্দান্ত খেলেন। চূড়ান্ত দিনে ৪২১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে দর্শনীয় ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাদ-বাকী ভারতকে জয় এনে দেন। ফলশ্রুতিতে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে তাঁকে ভারত দলে রাখা হয়। এবারও তাঁকে টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে জবুথবু ভাব পরিলক্ষিত হয়। পুণঃপুণ ভারতীয় ব্যাটিং বিপর্যস্ত হলে তাঁকে টেস্ট খেলার সুযোগ এনে দেয়। এমনকি অনেক তারকা ক্রিকেটারের চেয়েও ভালো খেলেন। বোম্বে টেস্টে ৩২ ও ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৯০ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি একাকীই তুলেছিলেন ৩০ রান। এ ইনিংসগুলো উইকেটের চতুর্পার্শ্বে খেলেছিলেন।

তাসত্ত্বেও এরপর থেকে দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক উপেক্ষার শিকারে পরিণত হন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। অভিষেকের ন্যায় এবারও দিলীপ বেঙ্গসরকারমোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের শতক পর্যবেক্ষণ করতে হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিতে ভারত দলের সদস্যরূপে অংশ নেন। দলটি শিরোপা জয় করলেও তাঁকে কোন খেলায় রাখা হয়নি। এরপর আর তাঁকে ভারত দলে খেলতে দেখা যায়নি। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলতে থাকেন। অবসর গ্রহণকালীন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫১ গড়ে প্রায় দশ হাজার রান তুলেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। পরবর্তীতে, বাংলা দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর একটি খেলায় ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট