|

অ্যাডাম প্যারোরে

২৩ জানুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন ও নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বর্ণাঢ্যময় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। বয়সের ভারে দৃশ্যতঃ ছন্দ হারানোর আশঙ্কা থাকলেও নিজেকে বেশ ঝরঝরে ভাবে রাখতেন। কখনোবা সারাদিন মাঠে থাকার পরও বাড়ীতে ব্যয়াম করতে দেখা যেতো। ২০০০-০১ মৌসুমে ৩০ বছর বয়সে এসেও উইকেট-রক্ষণে নিজের স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেছিলেন।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৮ সালে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।

১৯৯০ থেকে ২০০২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৭৮ টেস্ট ও ১৭৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১২* ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে অকল্যান্ডে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মার্টিন ক্রো নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।

একই মৌসুমে মার্টিন ক্রোর নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। রোশন মহানামা অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৪ সালে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩০ জুন, ১৯৯৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৯৫৮ সালের পর এ মাঠে সফরকারীদের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬১ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্টিন ক্রোর সাথে ৬ষ্ঠ উইকেটে ১৪১ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন। ৭ ও ৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল ডিফ্রিটাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৯৪ সালের উইলস ওয়ার্ল্ড সিরিজে অংশ নেন। বরোদরায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে তিনি কোন বাউন্ডারি না হাঁকিয়ে ওডিআইয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড দাঁড় করান।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৪৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সায়মন ডৌলের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভ রিচার্ডসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে লি জার্মনের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনসহ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হলে তিনি দলের তিন নম্বর অবস্থানে থেকে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৩৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মার্ক টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের২০ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে পৌঁছানোকালে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৩০ ও ৬৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্টিভ ওয়াহ দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হার্শেল গিবসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০১-০২ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০০ রান অতিক্রম করেন। ওয়াকায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে নাথান অ্যাসলে’র সাথে অষ্টম উইকেট জুটিতে ২৫৩ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬* রান তুলেন। পাশাপাশি,চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজের সমাপ্তি ঘটে। উদীয়মান ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্থানের পাশাপাশি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।

একইমৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ২০০২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টের পূর্বেই এক দশকের অধিক সময় নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলে তিনি অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ৪৫ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ড্যারিল টাফি অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ টেস্টে ২০০তম ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০৪টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ডীয় উইকেট-রক্ষকের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েন। ২৬.২৮ গড়ে ১৮৬৫ রান তুলেন।

নিউজিল্যান্ডীয় প্রশাসনের সাথে মৌখিক তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পরেন। অবসর গ্রহণের ছয় বছর পর ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে দুই বছর মেয়াদে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে চুক্তিবদ্ধ হন। অনুমোদনবিহীন লীগের উদ্বোধনী আসরে চেন্নাই সুপারস্টার্স শিরোপা জয় করেছিল। মেক-এ-উইশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ দাতব্য তহবিল গঠনের অংশ হিসেবে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়োয় পৌঁছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট