১৭ অক্টোবর, ১৮৭৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ওয়ালহলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বার্লো’ কিংবা ‘বিল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট পরিবেশে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরণ অনেকাংশেই ইংল্যান্ড ও ল্যাঙ্কাশায়ারের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডিক বার্লো’র অনুরূপ ছিল। অবিচলিত চিত্তে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহারের চেয়ে টিকে থাকার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ ঘটাতেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুম থেকে ১৯১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে স্যামি কার্টারের সহকারী হিসেবে খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, কোন টেস্টে তাঁকে রাখা হয়নি।
১৯১২ সালে পুণরায় ইংল্যান্ড সফরে যান। ঐ বছর সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ পর্যায়ে স্যামি কার্টারসহ শীর্ষস্থানী খেলোয়াড়দের সাথে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ডের মতবিরোধের জের ধরে অনুপস্থিতির কারণে খেলার সুযোগ পান। এ সফরেই সবগুলো টেস্ট খেলেন। সব মিলিয়ে তিনি মাত্র ১৬ রান তুলেছিলেন ও ছয়টি ক্যাচ তালুবন্দী করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
২৭ মে, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। ক্লড জেনিংস ও সিড এমরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৮৮ রানে জয়লাভ করে।
১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় তিনি ব্যাট কিংবা বল হাতে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১১৬টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১২.১৭ গড়ে রান পেয়েছেন। দলের ১০৬৩ রান সংগ্রহের খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৮ রান তুলেছেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯০৩ থেকে ১৯০৫ সময়কালে ভিক্টোরিয়ান ফুটবল লীগে (ভিএফএল) এসেনডনের পক্ষে খেলে ৮ গোল করেছিলেন। এসেনডনে খেলার আগে-পিছে ভিক্টোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রিচমন্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। চতুর্থ ফিরতি খেলা শেষে ১৯০৫ সালে এসেনডন ত্যাগ করে রিচমন্ডে ফিরে আসেন। ঐ বছরের ভিএফএ গ্র্যান্ড ফাইনাল টিমের চূড়ান্ত খেলায় রিচমন্ড জয়লাভ করেছিল।
২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার প্রাহরান এলাকায় ৫৮ বছর ১২৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
