|

বিল হুইটি

১৫ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের এলিজাবেথ স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯০৭ থেকে ১৯২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর খেলার ধরন অনেকাংশে জর্জ হার্স্টের অনুরূপ ছিল।

১৯০৯ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৪টি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৯ সালে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ মে, ১৯০৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়ারেন বার্ডসলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, সূচনা পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। খেলায় তিনি ০* ও ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৩ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। টেস্ট সিরিজ থেকে ১৭ গড়ে ৩৭ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, মেলবোর্নের দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিতকালীন তিনি ১৬ ওভারে ৬/১৭ লাভ করে স্বাগতিক দলের বিজয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এসজে স্নুককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ০/১৮। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৩৩ ও ৪/৭৫ লাভ করেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৭ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১৪ ও ৬/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। ৩৮ রানে জয় পেলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ৩৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৭৮ ও ২/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলতে নামেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/৬০ ও ০/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪৬ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯১২ সালে সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ মে, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৫৫ ও ২/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৮৮ রানে জয়লাভ করে।

১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪/৪৩ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬৯ ও ৩/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২১ গড়ে ৬৫ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বারমুডায় অস্ট্রেলীয় দলের সাথে গমন করেছিলেন। ক্রিকেটে তেমন পরিচিতি পাননি। প্রায়শঃই অন্যান্যদের সাফল্যে ম্লান হয়ে পড়তেন। তবে, তারকা ক্রিকেটার ভিক্টর ট্রাম্পারের বিপরীতে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। শেফিল্ড শীল্ডে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যকার পাঁচটি খেলার তিনটিতে ভিক্টর ট্রাম্পার অপরাজিত ছিলেন। তবে, অন্য সাত ইনিংসের প্রত্যেকটিতেই তাঁর বলে বিদেয় নিয়েছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় অংশ নেন। তাছাড়াও, অ্যাডিলেডভিত্তিক কয়েকটি দলে খেলেছেন। ১৯২০-এর দশকের শেষদিকে মাউন্টি গাম্বিয়ার অঞ্চলে চলে যান। সেখানেও খেলা চলমান রাখেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৪৭৫ উইকেট পেয়েছিলেন।

অবসর গ্রহণের পর গল্ফের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার টানটানুলা এলাকায় ৮৭ বছর ১৬৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন অস্ট্রেলিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। এ সময়ে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তীকালের একমাত্র জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। তাঁর সম্মানার্থে হুইটি শীল্ড প্রতিযোগিতার নামকরণ করা হয়। চ্যাপেল-হুইটি একাডেমি নামে ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট