৩ জুলাই, ১৮৫১ তারিখে কেন্টের উলউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

জন্মের কয়েক বছর পরই পিতা উইলিয়াম ব্যানারম্যান তদ্বীয় অস্ট্রেলীয় পত্নী মার্গারেটকে সাথে নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসে চলে যান। সিডনিতে ওয়ারউইক ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। সারের ক্রিকেটার উইলিয়াম কাফিনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৮৭৭ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম বল মোকাবেলা করার গৌরব অর্জন করেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার গৌরব অর্জন করেন।

১৮৭৭ সালের উদ্বোধনী টেস্ট ও অভিষেক টেস্টে অংশ নেয়ার পর আইসিসি’র র‍্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী খেলায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অংশ নিয়ে সর্বাধিক ৪৪৭ আইসিসি র‍্যাঙ্কিং পয়েন্ট লাভ করেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে আলফ্রেড শ’য়ের প্রথম বল মোকাবেলা করেছিলেন তিনি। এমসিজিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সংগৃহীত ২৪৫ রানের মধ্যে ১৬৫ রান তুলে রিটায়ার্ড হার্ট হন। তাঁর প্রায় ২৯০ মিনিটব্যাপী স্থায়ী এ ইনিংসে ১৮টি চারের মার ছিল। একজন ব্যাটসম্যানের সংগৃহীত এ রানটি অদ্যাবধি দলীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ অংশ হিসেবে রেকর্ডরূপে টিকে রয়েছে। দলীয় ইনিংসের ৬৭.৩৪% রান তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম রান ও প্রথম শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন। দলের সংগ্রহ ২৪০/৭ থাকাকালে ইউলিটের বলে ডানহাতের কনিষ্ঠায় গুরুতর চোট পান। তাঁর পরিবর্তে ডব্লিউ.নিউইং ফিল্ডিং করতে নামেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৪ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন।

১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অস্ট্রেলিয়ায় ১২ টেস্ট ও ১৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও, কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট প্রথমবারের পরিচালনায় অগ্রসর হন। ১৯০১-০২ মৌসুমে মেলবোর্নে শেষ টেস্ট পরিচালনা করেন। উভয় ক্ষেত্রে তাঁর ভ্রাতা আলিক ব্যানারম্যান খেলেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মেলবোর্ন ও সিডনি এবং ক্রাইস্টচার্চের ক্রাইস্টস কলেজে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

১৯২২-২৩ মৌসুমে তাঁর আর্থিক সহায়তাকল্পে ক্রিকেটে বিশ্বের প্রথম বেতার সম্প্রচারে £৪৯০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। বয়সের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০ আগস্ট, ১৯৩০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় ৭৯ বছর ৪৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট