১২ জুন, ১৯৭৬ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ধ্রুপদীশৈলীর বামহাতি স্পিনার ছিলেন। এ স্তরের ক্রিকেটে সন্দেহাতীতভাবে জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। বলকে শূন্যে ভাসিয়ে ধীরগতিতে ফেলতেন। বাদ-বাকীটুকু পিচের উপর নির্ভর করে বোলিংয়ের সক্ষমতা তুলে ধরতেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন। কিশোর অবস্থায় মেনিনজিটিসের প্রভাবে ক্ষাণিকটা কানে কম শোনেন। কাকা নিক গল্ফে বিশ্ব সেরা ও তারকা খেলোয়াড় ছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে ব্রিটিশ ওপেনের শিরোপা জয় করেন। গল্ফ খেলায়ও তিনি পারদর্শী। রেফ্রিজারেশন ও এয়ার-কন্ডিশনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টস, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মিডল্যান্ডস ও নর্দার্নস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে মিডল্যান্ডসের পক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। তবে, পরবর্তীতে, নিচেরসারিতে ব্যাটিং অবস্থানের উপযোগী হন।
১৯৯৯ থেকে ২০১৩ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট, ১০২টি ওডিআই ও ১২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২২ রান খরচ করে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
উপর্যুপরী দুইবার দেশের বাইরে টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করে সুন্দর মুহূর্ত উদযাপন করেন। প্রথমটি ২০০১-০২ মৌসুমে ভারতের মাটিতে শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তারকা ক্রিকেটারদেরকে বিদেয় করেন। ঐ খেলায় জিম্বাবুয়ে দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেও তিনি স্মরণীয় সাফল্য পান। এরপর, অক্টোবর, ২০০৩ সালে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ-উইকেট পেলেও দল পরাজিত হয়। ৬/১২১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে এবারও দারুণ ভূমিকা রাখেন।
একই বছরের নভেম্বর মাসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলকে প্রায় স্মরণীয় জয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, রিডলি জ্যাকবস ও ফিডেল এডওয়ার্ডসের অনবদ্য ভূমিকায় তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে ১৯ উইকেট দখল করে ২০০৩-০৪ মৌসুমে চমৎকার সময় অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ টেস্ট থেকে ২২.৪২ গড়ে ৩৩ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, তিনবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন।
সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সব মিলিয়ে পাঁচবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। সচরাচর বোলার হিসেবে সফলতা পেলেও একই সময়ে ব্যাটসম্যানের ধরন বুঝে সাযুজ্যময় বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং করতেন। টেস্ট খেলায় অভিজ্ঞ না হলেও শতাধিক ওডিআই খেলায়ও নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেরা ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে স্ট্যাম্প বরাবর বল ফেলতেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা পল স্ট্র্যাংয়ের সাথে তাঁকেও জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এপ্রিল, ২০০১ সালে হারারেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে সাত উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দেন। সবেমাত্র নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৎপরতা দেখানো অবস্থায় ২০০০-এর দশকে অন্যান্য সেরা খেলোয়াড়ের সাথে প্রশাসনের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ান। ২০০৪ সালের এ বিদ্রোহের ঘটনায় হিথ স্ট্রিকসহ অন্যান্যদের সাথে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর ইংল্যান্ডে চলে যান ও খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। আগস্ট, ২০০৪ সালে ওরচেস্টারশায়ারের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রধানতঃ ৫০-ওভারের খেলায় যথেষ্ট সফলতা লাভ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, সাড়ে তিন বছর পর ওরচেস্টারশায়ার কর্তৃপক্ষে ২০০৮ সালের জন্যে চুক্তি নবায়ণে অপারগতা প্রকাশ করে। এরপর থেকে চাতুর্য্যতাপূর্ণ ও মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রেখে একদিনের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ফলশ্রুতিতে, নভেম্বর, ২০০৮ সালে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরে আসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সাথে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হন। জিম্বাবুয়ের ওডিআই দলের প্রধান সদস্যের মর্যাদা পান। ২০০৯ সালে ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্রিকেটে ২০.৬১ গড়ে ৪৪ উইকেট পান। বোলিং তালিকায় শীর্ষে থাকেন। এরফলে, আইসিসি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে নিজেকে নিয়ে যান।
২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১২* ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
