১০ অক্টোবর, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতের ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
কোলাপুরের কৃষক ও গুড় ব্যবসায়ী দত্তারায়ের সন্তানরূপে পাতিলের জন্ম। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হলেও বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণ করতে পারতেন। দূর্দান্ত অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ক্ষীপগতিতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন ও নিচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার পদাঙ্ক অনুসরণে রঞ্জী ট্রফিতে মহারাষ্ট্র দলের পক্ষে খেলেন। অভিষেক পর্বটি তাঁর জন্যে দারুণ ছিল ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন। নতুন বল নিয়ে বোলিং অপরিবর্তিত রেখে ৫/৪৫ পান ও বোম্বে দলকে ১১২ রানে গুটিয়ে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৬৮ নিয়ে দলকে ১৯ রানের ব্যবধানে জয় এনে দেন। এরপর খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি আরও দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১ মৌসুমে মাত্র ৩৬ খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। কেবলমাত্র দুই মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। অধিকাংশ খেলাই ১৯৫০-এর দশকে মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ৩০.৬৬ গড়ে ৮৩ উইকেট পান। তন্মধ্যে, তিনবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। তিনটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৭.০৬ গড়ে ৮৬৬ রান তুলেছেন। এছাড়াও, ২০টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।
১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ভারতে সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে পশ্চিমাঞ্চলের সদস্যরূপে খেলেন। ৩/৪৪ ও ৪/৩০ নিয়ে খেলায় তিনি ৭৪ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করেন। পশ্চিমাঞ্চলের ৬ উইকেটের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ লালা অমরনাথের যুব নীতির আলোকে তাৎক্ষণিকভাবে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
১৯৫৫ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। নরি কন্ট্রাক্টর ও বিজয় মেহরা’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকে ৫১ রান খরচায় ২ উইকেট পান। জন আর রিডকে উভয় ইনিংসে বিদেয় করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে, বিনু মানকড় ও সুভাষ গুপ্তে’র কল্যাণে ভারত দল ইনিংস ও ২৭ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। এরফলে, স্বাগতিক দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পর ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত আরও সাত মৌসুম মহারাষ্ট্রের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলা চলমান রাখেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে বোম্বের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৯ রান তুলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে গুজরাতের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৫/৩৮ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৯৫৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে চার্চের পক্ষে ও ১৯৬১ সালে ব্যাকাপের পক্ষে খেলেছেন।
অনানুষ্ঠানিকভাবে খেলার জগৎ থেকে বিদেয় নেন। সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলায় তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। টাটায় চাকুরী করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে ৮৬ বছর ৩৪১ দিন বয়সে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
