৪ নভেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে লোগার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
খাঁটিমানসম্পন্ন বামহাতি ব্যাটসম্যানের পরিচয় পেয়েছেন। কভার ড্রাইভে কুশলতা রয়েছে। প্রিয় ক্রিকেটারের তালিকায় কুমার সাঙ্গাকারাকে শীর্ষে রেখেছেন। অধিকাংশ সময়ই আফগানিস্তানের ভিত্তি আনয়ণে ভূমিকা রাখছেন। মোহাম্মদ শাহজাদ, আফসার জাজাই, মোহাম্মদ নবি ও নজিবুল্লাহ জাদরানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংশৈলী অনেকাংশেই তাঁর দৃঢ়তার উপর নির্ভরশীল। স্ট্রাইক-রেট নিচুমুখী হলেও ইনিংসের গোড়াপত্তনে ভিত্তি গড়তে বিরাট প্রভাব ফেলেন।
তরুণ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে আফগানিস্তানের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলা প্রদর্শন করেছেন। কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ বড়দের দলে ঠাঁই হয়। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সদস্যরূপে প্রথম খেলেন। এরপর, ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে জয়লাভকারী আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন। দারুণ খেলার সুবাদে জিম্বাবুয়ে সফরে আফগানিস্তানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফরে দলের সদস্য হন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে অ্যামো রিজিওন, বন্দ-ই-আমির রিজিওন ও স্পিন গড় রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আইসিসিএ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কেনিয়া বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৭-১৮ মৌসুমের আহমদ শাহ আবদালী ফোর-ডে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলায় ১৬৩ রানের ইনিংস খেলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন। ঐ খেলায় বন্দ-ই-আমির রিজিওনের প্রতিপক্ষীয় ছিল স্পিন গড় রিজিওন।
২০১৩ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে শারজায় কেনিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে আর তাঁকে টি২০আইয়ে খেলতে দেখা যায়নি। পরের মাসে অর্থাৎ ২ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে শারজায় একই দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০১৮ সালে আসগর আফগানের নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। শিখর ধবনের অনন্য ব্যাটিং কৃতিত্বে ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ২৬২ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার জন্যে মনোনীত হন। দেরাদুনে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৬১ ও অপরাজিত ৪ রান তুলে দলের ৭ উইকেটের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।
এপ্রিলে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ২০১৯ সালের আসরে আফগানিস্তান দলের সদস্যরূপে তাঁকে রাখা হয়।
২০২০-২১ মৌসুমে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে আফগানিস্তানের পক্ষে নতুন ইতিহাস গড়েন। তাঁর অপরাজিত ২০০ রানের কল্যাণে আফগানিস্তান দল ৫৪৫/৫ তুলে নিজেদের ষষ্ঠ টেস্টে দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস ঘোষণা করে। ২১টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১০ ঘণ্টা থেকে ১০ মিনিট কম সময় নিয়ে ৪৪৩ বল মোকাবেলায় এ দ্বি-শতকটি আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম দ্বি-শতক ছিল। তাঁর পূর্বেকার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ৬১। ডোনাল্ড তিরিপানো’র বল থেকে এক রান সংগ্রহ করে দুইশত রান স্পর্শ করেন ও হুঙ্কারের মাধ্যমে আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপন করেন। এরফলে, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লিফোর্ড রোচ দলের ষষ্ঠ টেস্টে ২০৯ রানের ইনিংসের সাথে নিজেকে যৌথভাবে নিয়ে যান। এ পর্যায়ে অধিনায়ক আসগর আফগানের (১৬৪) সাথে ৪র্থ উইকেটে ৩০৭ রানের জুটি গড়েছিলেন। এ জুটিটি আফগানিস্তান দলের সর্বোচ্চ জুটি হিসেবে চিত্রিত হয়। তন্মধ্যে, আসগর আফগানের ১৬৪ রান স্বল্প সময়ের জন্যে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সন্ধানের মর্যাদা পায়। পরবর্তীতে, অপরাজিত ৬ রান তুলে দলের ৬ উইকেটের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন ও সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় আনেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে আফগানিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবির টলারেন্স ওভালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ৫৫ লাভ করেন। তবে, ঐ টেস্টে তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজিত হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে আফগান দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২০০ রান অতিক্রম করেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৪৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ৪৭৪ বল মোকাবেলায় তাঁর এ দ্বি-শতকটি আফগান খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ পর্যায়ে ৬০.৯২ গড়ে ৭৩১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১৩ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, রশীদ খানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৭২ রানে জয় তুলে নেয় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে আফগান দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ৭ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাজয়বরণ করে।
