|

জহির খান, ১৯৯৮

২০ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে পাকতিকা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। লেফট-আর্ম রিস্ট স্পিন বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পরিবারের বারণ সত্ত্বেও খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তাসত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যান ও এক পর্যায়ে তাঁদের সহায়তা পান। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে মিস আইনাক রিজিওন এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রিসবেন হিট, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, জ্যামাইকা তল্লাজ, কাবুল ঈগলস, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, এমআই এমিরেটস, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, মেলবোর্ন স্টার্স, রাজস্থান রয়্যালস ও সেন্ট লুসিয়া জুকসের পক্ষে খেলেছেন।

২১ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। প্রথম ইনিংসে ৩ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৪ উইকেট নিয়ে দলের ২০১ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ৪ খেলায় অংশ নিয়ে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল সেমি-ফাইনালে পরাজিত হয়।

১০ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওন্যাল ওয়ান-ডে টুর্নামেন্টে বন্দ-ই-আমির রিজিওনের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। খোস্তে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় স্পিন গড়ের বিপক্ষে ৬ উইকেট পান। খেলায় তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৬.১-০-৩৬-৬। বারো উইকেট দখলের মাধ্যমে করিম জানাতের সাথে যৌথভাবে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শাপিজা ক্রিকেট লীগে টি২০ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। কাবুলে বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্সের সদস্যরূপে মিস আইনাক নাইটসের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি দুই উইকেট লাভ করেন।

আগস্ট, ২০১৮ সালে মৌসুমের বাদ-বাকী সময়ের জন্যে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাথে যুক্ত হন। ১০ আগস্ট, ২০১৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে যোগ দেন। ২০১৯ সালে আহমদ শাহ আবদালী ফোর-ডে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। পাঁচ খেলায় ত্রিশটি উইকেট পান।

সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে নানগড়হর দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। অক্টোবর, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের খসড়া খেলোয়াড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর খুলনা টাইটান্স দলের সদস্য হন।

২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে ৬০ লক্ষ রূপীর বিনিময়ে রাজস্থান রয়্যালস দলের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, আঘাতের কারণে ঐ মৌসুমে খেলতে পারেননি। ২০১৯ সালে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগে জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেন। ২০১৯-২০ মৌসুমের বিগ ব্যাশ লীগে ব্রিসবেন হিটের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিতে উপনীত হন। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে মুজিব উর রহমানের সাথে ব্রিসবেন হিটে যোগ দেন। পরের মৌসুমেও দলের সাথে খেলেন। ২০২০-২১ মৌসুমের বিগ ব্যাশ লীগকে সামনে রেখে ১৮ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে মেলবোর্ন স্টার্সের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হন।

ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। জানুয়ারি, ২০১৮ সালের আইপিএল নিলামে রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেয়। ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে এসিসি এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ খেলার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য হন।

২০১৯ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। মে, ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট খেলার উদ্দেশ্যে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। তবে, ঐ খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ও টি২০আই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানের সদস্য হন। ১০ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক হয়। এরপর, আফগানিস্তানের টেস্ট দলে যুক্ত হন। তবে, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে খেলার সুযোগ পাননি।

রশীদ খানের অধিনায়কত্বে আগস্ট, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে যুক্ত হন। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ইব্রাহীম জাদরানকায়েস আহমদের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একাদশ অবস্থানে নেমে ০* ও ০ লাভ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৬ ও ৩/৫৯ লাভ করে দলের ২২৪ রানে বিজয়ে অংশ নেন।

২০২৩-২৪ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবির টলারেন্স ওভালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। বল হাতে নিয়ে ১/৬৭ ও ০/১৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০ ও ৪* রান তুলতে সক্ষম হন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজিত হয়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/১২৭ ও ২/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্রায়ান বেনেটের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

সম্পৃক্ত পোস্ট