১২ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়াস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

জন ক্রেগ ও ক্যাথরিন ক্রেগ দম্পতির সন্তান ছিলেন। এনএসডব্লিউ ব্যাংকে কর্মরত পিতার স্থানান্তরের কারণে ১৯৩৭ সালে মোসম্যান থেকে সিডনিতে চলে আসেন। নর্থ সিডনি বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সেখানে রাগবি ও অ্যাথলেটিক্সের পাশাপাশি ক্রিকেটে দক্ষ হয়ে উঠেন। তবে, ক্রিকেটের তুলনায় রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে হাফ-ব্যাক অবস্থানে দারুণ খেলতেন। তবে, রাগবিতে চোয়াল ভেঙ্গে গেলে ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। পরবর্তীতে, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছিলেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফ্রি ফরেস্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ বছর বয়সে অভিষেক খেলায় ইয়ান ক্রেগ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, এনএসডব্লিউ’র কনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে শেফিল্ড শীল্ডে খেলেন। বিল ও’রিলি এ সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘এ বয়সে ডন ব্র্যাডম্যানের তুলনায় ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিকতর পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছিলেন।’

১৭ বছর বয়সে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকান একাদশের বিপক্ষে এসসিজিতে মুখোমুখি হন। ২১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বি-শতক হাঁকানো কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ১৯ বছর বয়সে এনএসডব্লিউ’র কনিষ্ঠ অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রন আর্চারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। খেলায় তিনি ৫৩ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, এ ধরনের সাফল্যের কারণে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের কাছেই ‘পরবর্তী ব্র্যাডম্যান’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। তবে, স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্র হয়।

১৯৫৬ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। এ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ২২ বছর ১৯৪ দিন বয়সে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া এ সিরিজে তাঁর দল ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়।

২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৪ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত ৮ ও দলীয় সংগ্রহ ৫৩/২ থাকাকালে আঘাতের কবলে পড়েন। এরপর, দলের সংগ্রহ ২৩৯/৭ থাকাকালে পুণরায় মাঠে ফিরে আসেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দেশে ফিরে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হন। দৃশ্যতঃ তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন তলানীতে ঠেকে ও অধিনায়ক হিসেবে রিচি বেনো’র উত্থান শুরু হয়। ঊনাশি বছর বয়সে এক স্বাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, ‘কাউকে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের প্রস্তাবনা দেয়া হলে তা উপেক্ষা করা বেশ কঠিন।’ জেফ থমসনের কারণে তাঁকে অনেকটা আগেভাগেই অবসর গ্রহণ করতে হয়েছিল।

টেস্টগুলো থেকে মাত্র ১৯.৮৮ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পনেরো শতক সহযোগে ৩৭.৯৬ গড়ে ৭৩২৮ রান তুলেছিলেন। ৪৮টি খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে মাত্র দুইটি খেলায় পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করেন।

মসম্যান স্পোর্টিং ওয়াল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। রস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির অ্যান্ড্রু, জোনাথন ও অ্যালেক্স নামীয় সন্তান রয়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ১৬ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে ৭৯ বছর ১৫৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট