১৮ জুন, ১৯৮১ তারিখে ট্রান্সভালের ভারিনিগিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলিং কর্মে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। পিতা আলবার্ট মরকেল বর্ণবৈষ্যমবাদ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতেন। পেসার মর্নে মরকেলের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তিনি। তাঁর খেলার ধরন অনেকাংশেই ল্যান্স ক্লুজনারের অনুরূপ ছিল। ডানহাতে বল ও বামহাতে ব্যাটিংয়ের সামঞ্জস্যতা বজায়ের ফলে তিনি পরবর্তী ল্যান্স ক্লুজনার হিসেবে বিবেচনায় চলে এসেছিলেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন ও কার্যকর বোলিংয়ে দলে অবদান রাখতেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্নস ও টাইটান্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফ্রিকা একাদশ, চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সেন্ট লুসিয়া জুকসের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৫২টি ওডিআই ও ৫০টি টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

অভিষেকের তিন বছর পর ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উৎসাহব্যঞ্জক ৯৭ রান সংগ্রহ করেন। এরপর, পাকিস্তান সফরে চার উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে, ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ের পক্ষে আইপিএল খেলার সুযোগ এনে দেয়। এ পর্যায়ে এসেও ব্যাট ও বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে থাকেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ইমরান খানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিনি সহোদর মর্নে মরকেলের স্থলাভিষিক্ত হন। অভিষেকে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে দলের ইনিংস বিজয়ে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৪ ও ০/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, পল হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলায় জয়সূচক রান সংগ্রহসহ বোলিংয়ে অপূর্ব অবদান রাখায় দলের অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। কিন্তু, খুব শীঘ্রই দলের প্রথম একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা হারান। সীমিত-ওভারের খেলায় আসা-যাবার পালায় থাকেন। চেন্নাইয়ের পক্ষে ছয় মৌসুম সফলতার সাথে কাটান। এরপর, ২০১৪ সালে ব্যাঙ্গালোরে চলে যান।

২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। ৯ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৫ মার্চ, ২০২২ তারিখে বাংলাদেশের মারকুটে কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। মার্থমারি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট