| |

ইয়ং জ্যাক হার্ন

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে মিডলসেক্সের ইয়র্ক ভিলাস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ইয়ং জ্যাক’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯০৬ সালে লর্ডসে স্কোরকার্ড সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। এক পর্যায়ে চমৎকার ডানহাতি অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯০৯ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ৬৪৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৯৬ শতক সহযোগে ৩৭২৫২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১৯২৯ সালে লেটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে এসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৮৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ শতকটি কাউন্টির পক্ষে তাঁর সংগৃহীত এগারোটি দ্বি-শতকের সর্বশেষটি ছিল।

১৮৩৯টি উইকেট দখল করেছেন। ব্যক্তিগত সেরা করেন ৯/৬১ ও ৩৪৮টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৯২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। ১৯০৯ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন ও ঐ বছর আটটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সমারসেটের বিপক্ষে ৭১ রানের ইনিংস খেলে নিজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পরের মৌসুমে ৭২৫ রান সংগ্রহসহ ৪৯ উইকেট দখল করেন।

১৯১১ থেকে ১৯২৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৮০৬ রান ও ৩০ উইকেট দখল করেছেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিল মিড, ফ্রাঙ্ক ফস্টার, জনি ডগলাস ও সেপ কিনিয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭৬ ও ৪৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৪ ও ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

মেলবোর্ন টেস্টে ১১৪ রানের শতক হাঁকান ও পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়।

১৯১২ সালে নিজ দেশে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জোহানেসবার্গের ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে আর বিউমন্টকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/৫। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৪৯ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৯১ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৪ ও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯২৪-২৫ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৯ ও ৪/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮১ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৬ সালে নিজ দেশে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে জ্যাক হবসহার্বার্ট সাটক্লিফ ব্যতিত দলের সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ঊনিশ মৌসুমে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ও পাঁচবার ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। তন্মধ্যে, ১৯১৩, ১৯১৪ ও ১৯২০ সালে দুই সহস্রাধিক রানসহ শতাধিক উইকেট লাভ করেছিলেন। ১৯২৩ সালে সাউদাম্পটনে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো চারজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে শতক হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে খুব সহজেই শততম শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অনেকগুলো বছর লর্ডসে কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে এমসিসি’র আজীবন সদস্যের মর্যাদা লাভ করেন। পরবর্তীতে, ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। অনেকগুলো বছর দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে মিডলসেক্সের ওয়েস্ট ড্রেটন এলাকায় ৭৪ বছর ২১৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট