২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৫১ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। দীর্ঘদেহী ও কোঁকড়ানো কেশরের অধিকারী তিনি। অর্থোডক্স ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থা অবলম্বনে বলে নিয়ন্ত্রণ এনে পর্যাপ্ত শক্তি প্রয়োগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, শর্ট-লেগ অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৭৮ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩০ টেস্ট ও ১৪টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে জিওফ বয়কটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জন রাইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে পরাভূত করেছিল। খেলায় তিনি ৪ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৭২ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। কয়েক মাস পর ট্রেন্ট ব্রিজে দারুণ খেলা উপহার দেন। ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহকালে তিনি ২৮-১৮-২৯-২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন।
১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৪ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে কলম্বোর সিসিসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চতুর্থ উইকেটে ৮২ রানের নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, ১৯৯৮ সালে কলম্বোর আরপিএসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উদ্বোধনী টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সিডি ম্যাকমিলান ও এসপি ফ্লেমিং চতুর্থ উইকেটে ২৪০ রানের জুটি গড়লে তাঁদের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ৩৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে মাঠে নামেন ও তৎকালীন ২৪ ইনিংসে এটিই তাঁর দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শের ঘটনা ছিল। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫১ ও ৩/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৬১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম সিরিজ বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত একচেটিয়া খেলায় তিনি ৪/৩৭ পেয়েছিলেন। তবে, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটের দাপটে দূর্ভাগ্যবশতঃ নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেও বাদ পড়েন। প্রকৃতমানের নিচেরসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। তাসত্ত্বেও মাঝে-মধ্যেই ব্যাট হাতে দলে ভূমিকা রাখতেন।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৬ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৩ ও ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইকবাল কাসিমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে অনিল দলপতের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে খেলায় তিনি ৪/৮৩ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে আজিম হাফিজের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এ সিরিজে ২৯ রান সংগ্রহসহ ১৭ উইকেট দখল করে ইকবাল কাসিমের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৭ ও ০/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। এ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৫ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে শেষ উইকেট জুটিতে ১২৪ রান তুলে নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৩ ও ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জন ব্রেসওয়েলের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।
